নিজস্ব সংবাদদাতা, কেশিয়াড়ি: যত দূর চোখ যায়, শুধু জল আর জল। কোথায় আল, কোথায় জমি বোঝার উপায় নেই। সেই জলের নীচেই তলিয়ে রয়েছে কৃষকের সারা মরসুমের স্বপ্ন। দিনের পর দিন টানা বৃষ্টিতে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ি ব্লকের ৫ নম্বর খাজরা অঞ্চলের কুলবনি, রঙ্গিদাস, বেনাডিহা, ইন্দ্রা-পাবনিয়া-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার একরের পর একর কৃষিজমি এখন জলের তলায়। মাঠে দাঁড়িয়েই পচছে ধান, ক্ষতির মুখে আখ। কোথাও আবার ধানের শিষেই গজিয়ে উঠছে অঙ্কুর!
স্থানীয় চাষিদের বড় অংশই আউশ ধানের উপর নির্ভরশীল। ধান ঘরে তুলেই শুরু হয় আখ ও বিভিন্ন সবজির চাষ। সেই ফসলের আয়েই চলে সংসার, মেটে পরবর্তী চাষের খরচ। কিন্তু এ বার লাগাতার বৃষ্টি কার্যত ভেঙে দিয়েছে সেই হিসাব। চাষিদের দাবি, অতিবৃষ্টির কারণে এ মরসুমে একাধিকবার ধান রোপণ করতে হয়েছে। কোথাও চারা নষ্ট হয়েছে, কোথাও জল জমে ফের নতুন করে রোপণ করতে হয়েছে। তবু শেষরক্ষা হয়নি। দিনের পর দিন মাঠে জল দাঁড়িয়ে থাকায় এখন পাকার মুখে থাকা আউশ ধানও নষ্ট হতে শুরু করেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের ছবি ধরা পড়ছে ধানের শিষে। দীর্ঘদিন জলে থাকার কারণে কোথাও কোথাও শিষ থেকেই অঙ্কুর বেরিয়ে এসেছে। অর্থাৎ মাঠেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ফসল। শেষ চেষ্টা হিসেবে কয়েকজন কৃষক শ্রমিক নামিয়ে জলের মধ্যেই ধানের গোছা তুলে আঁটি বেঁধে উঁচু করে রাখছেন, যাতে পুরো ফসল জলের তলায় না চলে যায়। কিন্তু তাতেও কতটা ধান বাঁচবে, তা নিয়ে বড়সড় সংশয় রয়েছে। চাষিদের কথায়, মাঠের দিকে তাকালে এখন আর কৃষিজমি বলে মনে হচ্ছে না মনে হচ্ছে যেন নদী বইছে। অথচ সেই জলের নীচেই রয়েছে তাঁদের মাসের পর মাসের শ্রম, বীজ, সার, মজুরি আর ধারকর্জের টাকা।
বৃষ্টি না থামলে এবং দ্রুত জল না নামলে ক্ষতির অঙ্ক আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা। শুধু আউশ ধান নয়, পরবর্তী আখ ও সবজি চাষও পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে এক মরসুমের ক্ষতি গড়াতে পারে পরের মরসুমেও। ফসল ডুবেছে, মাথায় বাড়ছে দেনার বোঝা কেশিয়াড়ির ৫ নম্বর অঞ্চলের বহু কৃষকের এখন একটাই প্রশ্ন, জল নামবে কবে, আর বাঁচবে কতটা ফসল?











