নিজস্ব সংবাদদাতা, সবং: মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল স্পষ্ট চোলাইয়ের ঠেক চিহ্নিত করুন, পুলিশ ও আবগারি দফতর একসঙ্গে অভিযানে নামুক। নেশামুক্ত বাংলা গড়তে বেআইনি মদ ও মাদকের বিরুদ্ধে কোনও রেয়াত নয়। সেই কড়া বার্তার কয়েক দিনের মধ্যেই পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ের একাধিক এলাকায় ফের চোলাই মদের কারবার সক্রিয় হয়ে ওঠার অভিযোগ। আর সেই অভিযোগ ঘিরেই এবার প্রশ্নের মুখে আবগারি দফতরের নজরদারি।
গত শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর বর্ধমানের পুলিশ লাইন মাঠে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে চোলাই মদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আবগারি দফতরকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশকে অভিযান চালানোর নির্দেশও দেন তিনি। সেই নির্দেশের পরে পূর্ব বর্ধমানে পুলিশ ও আবগারি দফতরের যৌথ অভিযানও শুরু হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে সবংয়ে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, দশগ্রাম অঞ্চলের হরেকৃষ্ণ বুথ, নানকার বুথ, খাজুরি বুথের পাশাপাশি দাঁদরা অঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে চোলাই মদের কারবার। কোথাও গোপনে তৈরি, কোথাও বিক্রি এমনই অভিযোগ তাঁদের। এর আগেও দশগ্রাম, খাজুরি ও নানকার এলাকায় চোলাই এবং মাদক বিক্রির অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছিল।
আর এখানেই স্থানীয়দের প্রশ্ন মুখ্যমন্ত্রীর এত কড়া নির্দেশের পরেও যদি একই এলাকায় ফের চোলাইয়ের অভিযোগ ওঠে, তবে আবগারি দফতরের নজরদারি কোথায়? বর্ধমানে নির্দেশের পর যৌথ অভিযান শুরু হতে পারলে সবংয়ে কেন একই তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না এই প্রশ্নও তুলছেন বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের দাবি, মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি ঠেক ভাঙলেই হবে না। কোথায় চোলাই তৈরি হচ্ছে, কারা তা সরবরাহ করছে, কারা বিক্রি করছে। গোটা চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান প্রয়োজন।
বিশেষ করে পুজোর মরসুমে বেআইনি মদের কারবার নতুন করে সক্রিয় হলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। তাঁদের বক্তব্য, প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে যখন নেশামুক্ত বাংলা গড়ার ডাক দেওয়া হচ্ছে, তখন নিচুতলায় সেই নির্দেশ বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
হুঁশিয়ারি হয়েছে, নির্দেশও হয়েছে। এখন সবংবাসীর প্রশ্ন মাঠে নামবে কবে আবগারি দফতর? তবে সবংয়ের উল্লেখিত এলাকাগুলিতে বর্তমানে চোলাই কারবার সক্রিয় থাকার অভিযোগ স্থানীয় সূত্রের; এই প্রতিবেদনে অভিযোগগুলির স্বাধীন প্রশাসনিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।











