খড়গপুর: গরিব ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি প্রকল্পের টাকাই কি পৌঁছে যাচ্ছিল অন্য অ্যাকাউন্টে? তপসিলি সম্প্রদায়ের পেনশন এবং পড়ুয়াদের স্কলারশিপের অর্থ তছরুপের অভিযোগে এ বার রাজ্যের (Anti-Corruption Branch) দুর্নীতি দমন শাখার হাতে গ্রেফতার হলেন এক সরকারি ইন্সপেক্টর। ঘটনাটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর-১ ব্লকের। ধৃত ব্যক্তি রাজ্য সরকারের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ ও উপজাতি উন্নয়ন দফতরে ইন্সপেক্টর পদে কর্মরত বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, ভুয়ো পরিচয়পত্র এবং ভুয়ো আবেদন তৈরি করে সরকারি প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করা হয়েছিল। অভিযোগের অঙ্কও কম নয়। তপসিলি বন্ধু পেনশন প্রকল্প এবং তপসিলি জাতি, উপজাতি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের স্কলারশিপ প্রকল্পের মোট ৮ লক্ষ ৬১ হাজার ৪৬০ টাকা অভিযুক্ত নিজের এবং কয়েক জন আত্মীয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেছিলেন বলে অভিযোগ।
সরকারি প্রকল্পে যাঁদের পাওয়ার কথা ছিল সেই টাকা, তা কী ভাবে অন্য অ্যাকাউন্টে গেল? কে বা কারা সেই অর্থ স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন? ভুয়ো নথি তৈরির পিছনে আর কারও ভূমিকা রয়েছে কি না? এখন সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, এই ঘটনায় ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ১৯৮৮ সালের দুর্নীতি দমন আইনের অধীনে তদন্ত শুরু করে রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখা।
সোমবার ওই ইন্সপেক্টরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, টাকা স্থানান্তর, নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে একাধিক প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি তিনি। তার পরেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। দুর্নীতি দমন শাখা জানিয়েছে, গ্রেফতারির পরেও তদন্ত থামছে না। সরকারি প্রকল্পের টাকা কোথায় কোথায় গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলিতে কারা টাকা পেয়েছেন এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, সব দিকই খতিয়ে দেখা হবে।
ধৃত ইন্সপেক্টরকে আদালতে হাজির করানো হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। সরকারি পেনশন-স্কলারশিপের টাকা যদি সত্যিই ভুয়ো নথির মাধ্যমে অন্য অ্যাকাউন্টে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়ে থাকে, তবে প্রশ্ন উঠছে। এতদিন নজরদারি কোথায় ছিল?











