নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরসিংহ: রাজ্যে শিল্পায়নের গতি বাড়ছে বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। সেই আবহেই এ বার রিলায়েন্সের বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানালেন তিনি। বুধবার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মভিটে পশ্চিম মেদিনীপুরের বীরসিংহে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রিলায়েন্সের একটি বড় প্রতিনিধিদল কলকাতায় আসছে। রাজ্যে একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “রাজ্যে একটার পর একটা শিল্প আসছে। রিলায়েন্সও এ রাজ্যে বড় বিনিয়োগ করছে। কলকাতায় তারা বড় দল পাঠিয়েছে।” এর আগে মুকেশ অম্বানী ও অনন্ত অম্বানীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকের পরেই রিলায়েন্সের তরফে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। সংস্থার একটি দল রাজ্যে এসে সম্ভাব্য প্রকল্পগুলি খতিয়ে দেখবে বলেও জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুধু শিল্প নয়, এ দিন বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান বীরসিংহকে ঘিরেও বড় পরিকল্পনার কথা জানান শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, বিদ্যাসাগরের স্মৃতিবিজড়িত এই গ্রামকে শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে রেখে দিলে হবে না। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যাতে পর্যটক, পড়ুয়া এবং গবেষকেরা এখানে এসে সময় কাটাতে পারেন, সেই পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
সেই কারণেই বীরসিংহে রাত্রিবাসের উপযুক্ত ব্যবস্থা তৈরির উপর জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পর্যটক ও গবেষকদের থাকার ব্যবস্থা, রাস্তা ও আলোর উন্নয়ন, মিউজিয়াম ও গ্রন্থাগারের সম্প্রসারণ-সহ একাধিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্যাসাগরের জন্মস্থানকে এমন ভাবে সাজিয়ে তুলতে হবে, যাতে আগামী দিনে গোটা দেশের মানুষের কাছে বীরসিংহ একটি আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। শুধু ঘুরতে আসা নয়, বিদ্যাসাগরকে নিয়ে গবেষণা বা তাঁর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানতে যাঁরা আসবেন, তাঁরাও যেন কয়েক দিন এখানে থেকে কাজ করার সুযোগ পান সেই লক্ষ্যেই পর্যটন দফতরকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বীরসিংহের উন্নয়নে ইতিমধ্যেই একাধিক পরিকাঠামো প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। বিদ্যাসাগরের জন্মভিটেকে ঘিরে পর্যটন ও গবেষণার নতুন কেন্দ্র গড়ার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ঐতিহাসিক বীরসিংহের গুরুত্ব আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। একদিকে রিলায়েন্সের সম্ভাব্য বিনিয়োগ, অন্যদিকে বিদ্যাসাগরের জন্মভিটেকে জাতীয় পর্যায়ের পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরার পরিকল্পনা বীরসিংহের মঞ্চ থেকে এ দিন শিল্প ও ঐতিহ্য, দুই ক্ষেত্রেই উন্নয়নের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।











