নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ: উপনিরর্বাচনের আগে রেজিনগরে প্রচারে ঝড় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার শক্তিপুরে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের সমর্থনে জনসভা থেকে একদিকে উন্নয়নের বার্তা দিলেন, অন্যদিকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন তিনি। শাখারভের জয় নিয়েও আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ‘‘শুধু সময়ের অপেক্ষা। তিনিও আমার সঙ্গে বিধানসভায় প্রবেশ করবেন। তাঁর নাম শাখারভ সরকার। কেউ আটকাতে পারবে না।’’
আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। রেজিনগরে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন মুর্শিদাবাদের প্রাক্তন জেলা বিজেপি সভাপতি শাখারভ সরকার। এ দিনের সভায় শুভেন্দুর বক্তব্যের বড় অংশ জুড়ে ছিল উন্নয়ন এবং সংখ্যালঘু ভোটের প্রসঙ্গ। তাঁর দাবি, রেজিনগরের মানুষ সাম্প্রদায়িক বিভাজন চান না, তাঁরা উন্নয়ন চান। বহু সংখ্যালঘু ভোটারও এবার বিজেপির দিকে এগিয়ে আসছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে এটি মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক দাবি। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেজিনগরে হাসপাতাল, সেতু, কলেজ এবং শিল্পক্ষেত্র তৈরির মতো একাধিক উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু।
নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের ফল নিয়েও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমান বিধানসভায় বিজেপির সদস্যসংখ্যার প্রসঙ্গ টেনে তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামের পর রেজিনগর থেকেও বিজেপি প্রার্থী বিধানসভায় পৌঁছবেন। সভায় যাওয়ার পথে প্রায় দু’ঘণ্টা জনসংযোগ করার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি মীর মদনের সমাধিস্থলে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
এর পরেই বাম, কংগ্রেস এবং তৃণমূলকে নিশানা করেন শুভেন্দু। বিধানসভায় বাম ও কংগ্রেসের বর্তমান প্রতিনিধিত্বের প্রসঙ্গ তুলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়েও আক্রমণ করেন তিনি। তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে চলা বিরোধের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর দাবি, আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে দলটির অস্তিত্ব আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। এগুলি মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক বক্তব্য ও দাবি।
রেজিনগরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরকেও এ দিন নিশানা করেন শুভেন্দু। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে হুমায়ুনের মৃত্যু-কামনা সংক্রান্ত মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, রাজনৈতিক লড়াইয়ে তর্ক, সমালোচনা এবং মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু প্রতিপক্ষের মৃত্যু কামনা করা গ্রহণযোগ্য নয়। হুমায়ুনের ওই মন্তব্য প্রকাশিত প্রতিবেদনেও সামনে এসেছে।
শুভেন্দুর বক্তব্য, হুমায়ুনের মন্তব্যের বিচার করবেন রেজিনগরের মানুষই। তিনি সেই বিচারের ভার ভোটারদের উপর ছেড়ে দিচ্ছেন বলে জানান। ভোটের আর হাতে গোনা কয়েক দিন। ফলে শক্তিপুরের এই জনসভাকে ঘিরে রেজিনগরের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। বিজেপির পক্ষে উন্নয়ন ও সরকারপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বার্তা সামনে রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধীরাও নিজেদের প্রচারে বিজেপির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলছে। শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে রায় যাবে, তা নির্ধারণ করবেন রেজিনগরের ভোটাররা ৬ অক্টোবর।











