নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: চোখের সামনে জলে পড়ে গেল সাত বছরের ছেলে। এক মুহূর্ত দেরি না করে তাকে বাঁচাতে ঝাঁপ দিলেন মা। পিছনেই জলে নামলেন বাবা। শেষ পর্যন্ত সন্তানকে নিরাপদে পাড়ে তুলতে পারলেও তীব্র স্রোতের কবল থেকে স্ত্রীকে আর ফেরাতে পারলেন না তিনি। শনিবার ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ির ঘাগরা জলপ্রপাতে বেড়াতে এসে এমনই মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হল বারুইপুরের এক পরিবার।
জানা গিয়েছে, কলকাতা সংলগ্ন বারুইপুর থেকে প্রায় ৩৬ জনের একটি পর্যটক দল এ দিন ঘাগরা জলপ্রপাত দেখতে আসে। ওই দলের সঙ্গেই ছিলেন রাজদীপ দত্ত, তাঁর স্ত্রী প্রীতি দত্ত এবং তাঁদের সাত বছরের ছেলে প্রিয়ঙ্কন দত্ত। রাজদীপ বারুইপুরের একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত।
দুপুর প্রায় ১২টা। জলপ্রপাতের কাছে ছবি তোলা শেষ করে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাঁরা। সেই সময় আচমকা পা পিছলে জলে পড়ে যায় প্রিয়ঙ্কন। ছেলেকে চোখের সামনে স্রোতে পড়তে দেখে আর অপেক্ষা করেননি প্রীতি। সঙ্গে সঙ্গে জলে ঝাঁপ দেন তিনি। স্ত্রী ও সন্তানকে বাঁচাতে পরক্ষণেই জলে নামেন রাজদীপ।
সাঁতার জানায় কোনও মতে ছেলেকে ধরে নিরাপদে পাড়ে তুলতে সক্ষম হন রাজদীপ। কিন্তু ততক্ষণে পরিস্থিতি ভয়াবহ। প্রবল স্রোতে ক্রমশ দূরে ভেসে যান প্রীতি। স্বামীর চোখের সামনেই স্রোতের মধ্যে হারিয়ে যান তিনি।
খবর ছড়াতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বেলপাহাড়ি থানার পুলিশ। বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে শুরু হয় জোর তল্লাশি। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক আকাঙ্খা ভাস্কর এবং পুলিশ সুপার মানব সিংলা।
ঘাগরা জলপ্রপাত সাধারণ সময়ে তুলনামূলক শান্ত থাকলেও বর্ষায় তার চেহারা বদলে যায়। জলস্তর বাড়ার সঙ্গে স্রোতের বেগও হয়ে ওঠে মারাত্মক। পিচ্ছিল পাথর আর প্রবল জলের টান মুহূর্তে বিপদ ডেকে আনতে পারে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ প্রীতি দত্তের সন্ধান মেলেনি। জলপ্রপাত ও সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। আনন্দঘন ভ্রমণ যে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে এমন দুঃস্বপ্নে বদলে যাবে, তা কল্পনাও করেনি পরিবারটি।











