প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

১৯ ঘণ্টা পেরিয়েও খোঁজ নেই প্রীতির! ছেলেকে বাঁচাতে ঘাগরার স্রোতে ঝাঁপ, জোর তল্লাশি

Published on: October 4, 2026
---Advertisement---

ঝাড়গ্রাম: আনন্দের ভ্রমণ মুহূর্তে বদলে গেল দুঃসহ অপেক্ষায়। ঝাড়গ্রামের ঘাগরা জলপ্রপাতে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে স্রোতে ভেসে নিখোঁজ হওয়া প্রীতি দত্তর এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি। ঘটনার পর প্রায় ১৯ ঘণ্টা কেটে গেলেও তাঁর সন্ধান না মেলায় উদ্বেগ বাড়ছে পরিবার ও পরিজনদের মধ্যে। প্রশাসন সূত্রে খবর, রবিবারও NDRF-সহ বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীরা এলাকায় জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছেন।

শনিবার কলকাতা সংলগ্ন বারুইপুর থেকে প্রায় ৩৬ জনের একটি পর্যটক দল ঝাড়গ্রামের ঘাগরা জলপ্রপাত ঘুরতে আসে। সেই দলেই ছিলেন রাজদীপ দত্ত, তাঁর স্ত্রী প্রীতি দত্ত এবং তাঁদের ছেলে প্রিয়ঙ্কন দত্ত। জানা গিয়েছে, রাজদীপ বারুইপুরের একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যাচ্ছে, শনিবার দুপুর প্রায় ১২টা নাগাদ জলপ্রপাতের কাছে ছবি তোলা শেষ করে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাঁরা। সেই সময় আচমকা পা পিছলে জলে পড়ে যায় প্রিয়ঙ্কন। ছেলেকে স্রোতের মধ্যে পড়ে যেতে দেখে মুহূর্তের মধ্যে জলে ঝাঁপ দেন প্রীতি।

স্ত্রী ও সন্তানকে বাঁচাতে এরপর জলে নামেন রাজদীপও। সাঁতার জানা থাকায় কোনও মতে ছেলেকে ধরে নিরাপদ জায়গায় তুলতে সক্ষম হন তিনি। কিন্তু ততক্ষণে প্রবল স্রোতের টানে অনেকটা দূরে ভেসে যান প্রীতি। চোখের সামনেই স্ত্রীকে স্রোতের মধ্যে হারিয়ে যেতে দেখেন রাজদীপ।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। খবর পেয়ে বেলপাহাড়ি থানার পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেন। দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজ চালানো হলেও শনিবার রাত পর্যন্ত প্রীতির কোনও সন্ধান মেলেনি।

শেষ পর্যন্ত ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে শূন্য হাতেই বাড়ি ফিরতে হয় রাজদীপকে। অন্যদিকে, রবিবার সকাল থেকেও তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। NDRF-এর কর্মীরাও জলপ্রপাত ও আশপাশের এলাকায় খোঁজ চালাচ্ছেন। নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ-প্রশাসন।

ঘটনার পর প্রায় ১৯ ঘণ্টা কেটে গেলেও প্রীতির খোঁজ না মেলায় উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। একদিকে নিরাপদে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার স্বস্তি, অন্যদিকে স্ত্রীকে না পাওয়ার গভীর উৎকণ্ঠা দুইয়ের মাঝেই এখন প্রহর গুনছে দত্ত পরিবার। সকলের একটাই আশা, দ্রুত খোঁজ মিলুক প্রীতি দত্তর।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now