প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

Medinipur: “মাটি থেকে ধুনুচি, ধুনুচি থেকে পুজোর আবহ! মির্জাবাজারে এখন চরম ব্যস্ততা”

Published on: October 6, 2026
---Advertisement---

নিজস্ব সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: দুর্গাপুজো মানেই ঢাকের আওয়াজ, ধুনোর গন্ধ আর ধুনুচি নাচ। পুজোমণ্ডপে সেই চেনা দৃশ্য ফেরার আগে এখন নাওয়া-খাওয়ার সময় নেই মেদিনীপুর শহরের মির্জাবাজারের কুমোরপাড়ায়। ধুনুচি থেকে প্রদীপ, সরা থেকে দ্বারঘট পুজোর নানা মাটির সামগ্রী তৈরিতে দিনরাত এক করছেন মৃৎশিল্পীরা।

শহরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের মির্জাবাজারে ঢুকলেই চোখে পড়বে ব্যস্ততার ছবি। বাড়ির উঠোন, রাস্তার ধার, এমনকি ছাদেও সারি দিয়ে শুকোতে দেওয়া হয়েছে ধুনুচি, প্রদীপ, জাকপ্রদীপ, জাক হাঁড়ি, স্ট্যান্ড প্রদীপ-সহ নানা সামগ্রী। একদিকে কুমোরের চাকায় মাটি আকার নিচ্ছে, অন্যদিকে চলছে শুকোনো ও ভাটিতে পোড়ানোর কাজ। দোকান এবং পুজো কমিটির বরাত সামলাতে পরিবারের পুরুষ-মহিলা সকলেই কাজে হাত লাগিয়েছেন।

ধুনুচি তৈরির কাজও হয় কয়েকটি ধাপে। প্রথমে তৈরি হয় উপরের গোল অংশ। আলাদা করে বানানো হয় স্ট্যান্ড ও হাতল। পরে তিনটি অংশ জুড়ে তৈরি হয় সম্পূর্ণ ধুনুচি। এক সময় হাতে ঘোরানো চাকাই ছিল ভরসা। এখন অনেকেই বৈদ্যুতিক চাকা ব্যবহার করছেন। ফলে কম সময়ে বেশি সামগ্রী তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।

তবে এ বার চিন্তা বাড়িয়েছে আবহাওয়া। বৃষ্টি এবং পর্যাপ্ত রোদ না থাকায় মাটির জিনিস শুকোতে দেরি হয়েছে। ভেজা কাঠের কারণে ভাটিতে পোড়ানোর কাজও ব্যাহত হয়েছে। এখন রোদ উঠতেই সেই ঘাটতি মেটাতে জোরকদমে চলছে উৎপাদন।

তার সঙ্গে বেড়েছে খরচও। মৃৎশিল্পী উত্তম পাল জানান, আগে এক বস্তা মাটির দাম ছিল ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। এখন তা আরও প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে। কাঠের দামও কুইন্টাল প্রতি ৮০০-৯০০ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ১২০০ টাকায় পৌঁছেছে। অথচ সেই অনুপাতে তৈরি সামগ্রীর দাম বাড়ানো যাচ্ছে না।

আকার ও ধরনের উপর নির্ভর করে ধুনুচি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১০ টাকা থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। শিল্পীদের দাবি, এ বছর ধুনুচির চাহিদা ভাল। তবে খরচ বাড়লেও বেশি দাম চাইলে অনেক ক্রেতাই পিছিয়ে যাচ্ছেন।

তবু পুজোর মুখে থেমে থাকার উপায় নেই। কুমোরের চাকায় তাই অবিরাম ঘুরছে মাটি। শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে ধুনুচি-প্রদীপ। আর কয়েক দিনের মধ্যেই সেই ধুনুচিতে ধুনো জ্বলবে, ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠবে, ঢাকের তালে আবারও ফিরে আসবে বাংলার দুর্গাপুজোর চিরচেনা আবহ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now