নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রকাশ্য রাস্তায় দুষ্কৃতীদের গুলি নয়! বন্ধুদের সঙ্গে পিস্তল নাড়াচাড়া করতে গিয়েই গুলিবিদ্ধ হয়েছিল স্কুলছাত্র অক্ষয় ঝা। আর সেই ঘটনা ধামাচাপা দিতেই সাজানো হয়েছিল দুষ্কৃতী হামলার গল্প! বুধবার খড়্গপুরের গুলিকাণ্ডে বৃহস্পতিবার এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই তিন জনকে গ্রেফতার করেছেন তদন্তকারীরা। উদ্ধার হয়েছে একটি ৯ এমএম পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি এবং রক্তমাখা পোশাক। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে গোটা ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা।
বুধবার সকাল থেকেই খড়্গপুর শহরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ওল্ড সেটেলমেন্ট এলাকায় গুলি চালানোর অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়ে যায়। জানা গিয়েছিল, বন্ধু সাগরের সঙ্গে বাইকে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতীদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছে ছাত্র অক্ষয় ঝা। বুকে গুলি লাগায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু ঘটনার বিবরণে একাধিক অসঙ্গতি ঘিরে প্রথম থেকেই প্রশ্ন উঠছিল।
তদন্তে নেমে সেই সন্দেহই নতুন মোড় নেয়। পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানার দাবি, দুই বন্ধু মিলে একটি পিস্তল নাড়াচাড়া করছিলেন। সেই সময় আচমকা গুলি বেরিয়ে অক্ষয়ের শরীরে লাগে। অপ্রত্যাশিত এই ঘটনার পরেই বিপাকে পড়ে যান সাগর। কী ভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়, তা ঠিক করতে ফোন করে আরও তিন বন্ধুকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন তিনি। সেখানে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয় বলেও দাবি পুলিশের।
এর পরেই গোটা ঘটনাকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি। রাস্তায় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা গুলি চালিয়েছে, এমন একটি গল্প সামনে আনা হয়। আহত অক্ষয়কে হাসপাতালে নিয়ে যান সাগর নিজেই। কিন্তু পুলিশের কাছে ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে তাঁর কথায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে। সাগরকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করতেই ঘটনার আসল কারণ সামনে আসে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে সাগরের বাড়ি থেকেও। পুলিশ জানিয়েছে, সেখান থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে রক্তমাখা জামাকাপড়। এই সব সামগ্রী তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় সাগর-সহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্য দুই ধৃত হলেন বিশাল জানা এবং কোলা জগ্গেশ্বর রাও। বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার পর সাগর যে তিন বন্ধুকে বাড়িতে ডেকে পাঠিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে দু’জন পুলিশের জালে ধরা পড়লেও অন্য এক জনের খোঁজ চলছে।
তবে এখনও বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। ওই ৯ এমএম পিস্তল কোথা থেকে এল? কার কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল আগ্নেয়াস্ত্রটি? কেনই বা সেটি নিয়ে নাড়াচাড়া করছিলেন দুই বন্ধু? ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও যোগ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বুধবার যে ঘটনাকে ঘিরে প্রকাশ্য রাস্তায় দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্যের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, বৃহস্পতিবার পুলিশের বক্তব্যে তার ছবিটাই বদলে গেল। বন্ধুর গায়ে গুলি লাগার পর দুষ্কৃতী হামলার গল্প সাজানোর অভিযোগে খড়্গপুরের এই ঘটনায় এখন নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে পুলিশের দাবি কতটা প্রমাণিত হয়, তা নির্ভর করবে তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ের উপর।











