প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

লাঙল-ট্র্যাক্টরের যুগ পেরিয়ে এবার ড্রোন! সবংয়ের কৃষিতে বড় বদলের ইঙ্গিত

Published on: October 11, 2026
---Advertisement---

নিজস্ব সংবাদদাতা, সবং: এত দিন কাঁধে স্প্রে মেশিন নিয়ে ধানখেতে কীটনাশক ছড়ানোর ছবিই ছিল পরিচিত। এ বার সেই কাজেই আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। ধানখেতের উপর দিয়ে উড়ছে ড্রোন। আর সেই ড্রোনের সাহায্যেই জমিতে ছড়ানো হচ্ছে কীটনাশক। পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং ব্লকে এমনই এক অভিনব উদ্যোগ নিল কৃষি দফতর। কৃষকদের সামনে সরাসরি ড্রোন উড়িয়ে দেখানো হল কীটনাশক প্রয়োগের পদ্ধতি। প্রযুক্তির এই ব্যবহার দেখতে উৎসাহও ছিল চোখে পড়ার মতো।

কৃষিকাজে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং যান্ত্রিকীকরণে উৎসাহ দিতে ন্যাশনাল মিশন অন এগ্রিকালচারাল মেকানাইজেশন (NMAM)-এর আওতায় এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সবং ব্লকের সহ-কৃষি অধিকর্তার উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কৃষি দফতরের কর্মী ও স্থানীয় কৃষকেরা।

আমন ধানের জমিতে ড্রোন উড়িয়ে কী ভাবে কীটনাশক প্রয়োগ করা যায়, তা হাতে-কলমে দেখানো হয় চাষিদের। নির্দিষ্ট উচ্চতায় ড্রোন উড়িয়ে জমিতে স্প্রে করার পদ্ধতি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি, অল্প সময়ে কী ভাবে বেশি পরিমাণ জমিতে তুলনামূলক সুষম ভাবে কীটনাশক ছড়ানো সম্ভব, সে বিষয়েও ধারণা দেওয়া হয় কৃষকদের।

কিন্তু প্রচলিত পদ্ধতি ছেড়ে ড্রোন ব্যবহারে লাভ কী? কৃষি দফতরের ব্যাখ্যা, ড্রোনের সাহায্যে তুলনামূলক কম সময়ে বেশি জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করা সম্ভব। এতে শ্রম ও সময় বাঁচতে পারে। পাশাপাশি, সরাসরি কীটনাশকের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকিও কমানো সম্ভব। তবে সঠিক মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে স্প্রে করার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু ড্রোন উড়িয়েই কর্মসূচি শেষ হয়নি। এই আধুনিক যন্ত্রের কার্যপ্রণালী, ব্যবহারিক সুবিধা এবং ভবিষ্যতে কৃষিকাজে তার সম্ভাবনা নিয়েও কৃষকদের সচেতন করেন কৃষি দফতরের কর্মীরা। প্রদর্শনী চলাকালীন ড্রোনের কাজকর্ম নিয়ে কৃষকদের মধ্যে যথেষ্ট কৌতূহল দেখা যায়। বিশেষ করে দ্রুত আমন ধানখেতে কীটনাশক প্রয়োগের বিষয়টি তাঁদের নজর কাড়ে।

কৃষিনির্ভর সবংয়ে চাষাবাদের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু পরিবারের জীবিকা। ধানচাষের পাশাপাশি বিভিন্ন ফসল উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই এলাকার কৃষকদের। ফলে কৃষিকাজে সময় ও শ্রম কমানোর জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আগামী দিনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছে কৃষি মহল।

যদিও ড্রোনের মতো প্রযুক্তি সাধারণ কৃষকদের কাছে কতটা সহজলভ্য হবে, ব্যবহারের খরচ কতটা এবং ছোট জমিতে তা কতখানি লাভজনক সে সব প্রশ্নও রয়েছে। তবে কৃষি দফতরের এই প্রদর্শনী চাষিদের কাছে নতুন প্রযুক্তিকে পরিচিত করে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

এক সময় লাঙল, তার পরে ট্র্যাক্টর। এ বার কি কৃষকের ভরসা হবে আকাশে ওড়া ড্রোন? সবংয়ের আমন ধানখেতে আধুনিক প্রযুক্তির এই ব্যবহারিক প্রদর্শন অন্তত সেই সম্ভাবনাই উস্কে দিল। কৃষির চিরাচরিত ছবিতে প্রযুক্তির নতুন সংযোজন ঘিরে তাই আশাবাদী কৃষকেরা।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now