প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

গড়বেতায় গ্রেফতার BMOH! নেপথ্যে কী অভিযোগ? তদন্তে স্বাস্থ্য দফতর

Published on: October 12, 2026
---Advertisement---

নিজস্ব সংবাদদাতা, গড়বেতা: সরকারি স্বাস্থ্য আধিকারিকের বিরুদ্ধে মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীকে যৌন হেনস্তা ও মারধরের গুরুতর অভিযোগ! সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতার হলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতার ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক (বিএমওএইচ) চিকিৎসক প্রবীর কুমার বাউরী। রবিবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে গড়বেতা থানার পুলিশ। সোমবার ধৃত চিকিৎসককে গড়বেতা আদালতে পেশ করার কথা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের অন্দরে।

অভিযোগকারিণী গড়বেতা এলাকার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কমিউনিটি হেলথ অফিসার পদে কর্মরত। অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার কয়েকটি প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করতে তিনি গড়বেতার বিএমওএইচের দফতরে গিয়েছিলেন। সেখানেই নথিপত্র দেওয়ার সময় তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দেন ওই স্বাস্থ্য আধিকারিক। শুধু তা-ই নয়, ওই মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীকে যৌন হেনস্তা করা হয় বলেও অভিযোগ। প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাঁকে মারধর করা হয় বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন ওই নার্স।

ঘটনার পর আহত অবস্থায় গড়বেতাতেই চিকিৎসা করান ওই মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী। তবে প্রথমে সামাজিক সম্মান ও কর্মক্ষেত্রের পরিস্থিতির কথা ভেবে থানায় অভিযোগ জানাননি তিনি। পরে পরিবারের সদস্যদের পরামর্শে রবিবার গড়বেতা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। অভিযোগ, পুলিশের তৎপরতার আঁচ পেয়ে এলাকা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্ত চিকিৎসক। তাঁর খোঁজে একাধিক দল গঠন করে তল্লাশি অভিযান শুরু করে গড়বেতা থানার পুলিশ। শেষ পর্যন্ত রবিবার রাতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত স্বাস্থ্য আধিকারিকের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।

তবে অভিযোগের এখানেই শেষ নয়। ওই মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীর দাবি, এর আগেও একাধিকবার তাঁকে আপত্তিকর প্রস্তাব দিয়েছিলেন অভিযুক্ত চিকিৎসক। এত দিন বিষয়টি প্রকাশ্যে না আনলেও বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর আর চুপ থাকেননি তিনি। এদিকে, ঘটনাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। পশ্চিম মেদিনীপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী জানিয়েছেন, গোটা ঘটনার বিভাগীয় তদন্ত করা হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর আগেও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছিল। এ বারও অভিযোগ খতিয়ে দেখে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

একজন মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রে তাঁর সম্মান রক্ষার প্রশ্নও সামনে এসেছে এই ঘটনায়। একদিকে পুলিশের তদন্ত, অন্যদিকে স্বাস্থ্য দফতরের বিভাগীয় তদন্ত দুই প্রক্রিয়াতেই এখন নজর রয়েছে। তবে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তাঁর তরফে কোনও বক্তব্যও এখনও জানা যায়নি। তদন্তে শেষ পর্যন্ত কী উঠে আসে এবং স্বাস্থ্য দফতর কী পদক্ষেপ করে, এখন সেটাই দেখার।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now