নিজস্ব সংবাদদাতা, সবং: একসময় ছিলেন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। সামলেছেন এলাকার প্রশাসনিক দায়িত্ব। সেই তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধানই এবার ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশের জালে! পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে এই গ্রেফতারির ঘটনা ঘিরে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে খোঁজ চালানোর পর শেষ পর্যন্ত ওড়িশা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত শংকর লায়াকে। সোমবার গভীর রাতে উড়িষ্যার চাঁদিপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে সবং থানার পুলিশের একটি দল।
ধৃত শংকর লায়া সবং ব্লকের ৩ নম্বর দাঁররা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান। তাঁর বাড়ি ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কলসবাড় গ্রামে। ২০১৮ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর পঞ্চায়েত প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় স্বাভাবিক ভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে এক মহিলা প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান শংকর লায়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে সবং থানার পুলিশ। কিন্তু অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তের খোঁজ মিলছিল না বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। তদন্তকারীরা তাঁর সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেন। বিভিন্ন সূত্র ধরে খোঁজখবর চালানোর পর শেষ পর্যন্ত ওড়িশার চাঁদিপুর থানা এলাকায় তাঁর অবস্থানের সন্ধান মেলে বলে জানা গিয়েছে।
অভিযুক্তের সন্ধান পাওয়ার পরই তাঁকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেয় সবং থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার গভীর রাতে, প্রায় ১২টা নাগাদ চাঁদিপুর থানা এলাকায় অভিযান চালায় সবং থানার একটি দল। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় শংকর লায়াকে।
মহিলার অভিযোগের পর দীর্ঘদিন ধরে যাঁকে খুঁজছিল পুলিশ, শেষ পর্যন্ত ভিন্রাজ্য থেকে তাঁর গ্রেফতারি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে মনে করা হচ্ছে। গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার ধৃত প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধানকে মেদিনীপুর জেলা আদালতে তোলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে চার দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান তদন্তকারীরা বলে জানা গিয়েছে। তবে পুলিশ হেফাজতের আবেদনের বিষয়ে আদালত কী নির্দেশ দিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাক্তন প্রধানের গ্রেফতারিতে সবংয়ের রাজনৈতিক মহলে শোরগোল। একসময় যে ব্যক্তি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের আসনে বসে এলাকার প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনা করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধেই ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ! বিষয়টি সামনে আসতেই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া কিংবা ধৃত প্রাক্তন প্রধানের বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের বিষয়টি তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল। এখন প্রশ্ন একাধিক। অভিযোগের পর এত দিন কোথায় ছিলেন প্রাক্তন প্রধান? তদন্তে আর কী তথ্য উঠে আসবে? ভিন্রাজ্য থেকে গ্রেফতারির পর সবংয়ের এই ঘটনায় তদন্তকারীদের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আদালতের নির্দেশের দিকেই নজর স্থানীয় মহলের।











