প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

স্নেহার মৃত্যুর আড়ালে লুকিয়ে কী? ছয় সদস্যের SIT গঠন করল পুলিশ, তদন্তে নয়া মোড়

Published on: October 14, 2026
---Advertisement---

নিজস্ব সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: স্নেহা চক্রবর্তীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে এখনও কাটেনি রহস্য। পণের দাবিতে নির্যাতন, খুনের অভিযোগ, স্বামী ও শ্বশুরের গ্রেফতারি একের পর এক ঘটনায় সরগরম মেদিনীপুর। মেয়ের মৃত্যুর বিচার চেয়ে রাস্তায় নেমেছেন বাবা-মা থেকে শুরু করে শহরের বহু মানুষ। এরই মধ্যে তদন্তে বড় পদক্ষেপ করল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। স্নেহার মৃত্যুর ঘটনায় গঠন করা হল ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। তদন্তের নেতৃত্বে থাকছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের ডিএসপি (প্রশাসন) দেবঞ্জয় সেন।গত ৮ অক্টোবর মেদিনীপুর সদর ব্লকের যমুনাবালি এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ২৫ বছরের স্নেহা চক্রবর্তীর ঝুলন্ত দেহ। শ্বশুরবাড়ির তরফে আত্মহত্যার দাবি করা হলেও সেই বক্তব্য মানতে নারাজ মৃতার পরিবার। স্নেহার বাবা ধ্রুব চক্রবর্তীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে মেয়ের উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চলছিল। তাঁর দাবি, মেয়েকে খুন করা হয়েছে। যদিও অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

ঘটনার পর কোতোয়ালি থানায় দায়ের হয় মামলা। অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই স্নেহার স্বামী রণদীপ জানা এবং শ্বশুরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদালতেও শুরু হয়েছে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া।এবার সেই তদন্তেই আরও গতি আনতে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের সিদ্ধান্ত। পুলিশের নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোতোয়ালি থানার মামলা নম্বর ৬৪৯/২৬, তারিখ ৯ অক্টোবর ২০২৬-এর তদন্তে SIT গঠন করা হয়েছে। মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৮৫, ৮০(২), ১০৩(১) ও ৩(৫) ধারা এবং যৌতুক নিরোধক আইনের ৩ ও ৪ ধারা যুক্ত রয়েছে।

কারা রয়েছেন বিশেষ তদন্তকারী দলে?

ডিএসপি দেবঞ্জয় সেনের নেতৃত্বে গঠিত ছয় সদস্যের দলে রয়েছেন: –

১. সিদ্ধার্থ ঘোষ — আইসি, কোতোয়ালি থানা।

২. উৎপল কুমার সাহা — আইসি, সাইবার ক্রাইম থানা।

৩. কবিতা দাস — আইসি, মেদিনীপুর মহিলা থানা।

৪. সুমিত সেনাপতি — এসআই, মামলার তদন্তকারী আধিকারিক।

৫. প্রীতম বিশ্বাস — এসআই তথা ওসি, এসওজি সেল।

জেলা পুলিশের নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, তদন্তকে আরও কার্যকর করা, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করা এবং উচ্চপর্যায়ের নজরদারি নিশ্চিত করাই বিশেষ দল গঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি হেফাজত সংক্রান্ত বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সমন্বয় এবং প্রমাণভিত্তিক, ফলাফলমুখী তদন্তের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্নেহার মৃত্যুর ঘটনায় প্রথম থেকেই একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। মৃত্যুর আগে ঠিক কী ঘটেছিল? পণের দাবিতে নির্যাতনের যে অভিযোগ উঠেছে, তার সত্যতা কতটা? আত্মহত্যার দাবি, নাকি পরিবারের তোলা খুনের অভিযোগ কোন দিকে ইঙ্গিত করছে তদন্তে পাওয়া তথ্য? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খোঁজাই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অন্য দিকে, মেয়ের মৃত্যুর সুবিচারের দাবিতে সরব হয়েছেন স্নেহার বাবা ধ্রুব চক্রবর্তী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মেদিনীপুর শহরে মোমবাতি হাতে পথে নামেন বহু মানুষ। শোকের আবহেই ওঠে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি।

এ বার ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের ফলে মামলার তদন্তে নতুন গতি আসবে বলেই প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে কারও অপরাধমূলক যোগ রয়েছে কি না এবং অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ মিলছে, তা তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। এক তরুণীর অকালমৃত্যু ঘিরে যে প্রশ্নের ঝড় উঠেছে মেদিনীপুরে, তার উত্তর কি খুঁজে বের করতে পারবে বিশেষ তদন্তকারী দল? স্নেহার মৃত্যুরহস্যের জট কবে খুলবে, আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে পরিবার থেকে শুরু করে গোটা শহর।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now