নিজস্ব সংবাদদাতা, সবং: বাজেট ৩৫ লক্ষ টাকা। মণ্ডপে প্রেম মন্দিরের আদল। আর সেই চোখধাঁধানো আয়োজন ঘিরেই পঞ্চমী থেকে উৎসবের আমেজ পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ের তেমাথানিতে। ৩৩ বছরের ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে এ বার নতুন চমক হাজির করেছে তেমাথানি পল্লীশ্রী ক্লাব। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্লাবের দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফিতে কেটে পুজোর উদ্বোধন করেন জেলাশাসক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সবংয়ের বিডিও রোমান মণ্ডল, বিধায়ক অমল পণ্ডা-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, পুজো কমিটির সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
তবে এ বারের পুজোয় সবচেয়ে বড় চমক লুকিয়ে রয়েছে মণ্ডপের অন্দরসজ্জা ও স্থাপত্য ভাবনায়। প্রেম মন্দিরের আদলে তৈরি হয়েছে পুজোমণ্ডপ। নজরকাড়া স্থাপত্যশৈলী আর আলোকসজ্জার মেলবন্ধনে দর্শনার্থীদের মন জয় করাই উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য। শুধু মণ্ডপ নয়, গোটা পুজো প্রাঙ্গণকে উৎসবের সাজে সাজিয়ে তুলতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পুজো কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরে দুর্গোৎসবের মোট বাজেট প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা। ৩৩তম বর্ষে পা রেখে তাই আয়োজনেও নতুনত্বের ছাপ রাখতে চেয়েছেন উদ্যোক্তারা।
অবশ্য আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য অপেক্ষা করেননি দর্শনার্থীরা। পঞ্চমীর দিন থেকেই তেমাথানি পল্লীশ্রীর মণ্ডপে ভিড় জমতে শুরু করেছে। সন্ধ্যা নামতেই আলোর সাজে অন্য রূপ নিচ্ছে গোটা এলাকা। পরিবার ও পরিজনদের সঙ্গে মণ্ডপ দর্শনে আসছেন বহু মানুষ।
সবংয়ের দুর্গাপুজোর মানচিত্রে তেমাথানি পল্লীশ্রী ক্লাব দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত নাম। প্রতি বছর নতুন ভাবনা ও আয়োজনের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করার চেষ্টা করেন উদ্যোক্তারা। এ বারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ৩৩ বছরের পথচলাকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রেম মন্দিরের আদলে মণ্ডপ গড়ে কার্যত নতুন চমক দিয়েছেন তাঁরা।
এক দিকে ৩৫ লক্ষ টাকার আয়োজন, অন্য দিকে ৩৩ বছরের ঐতিহ্য। সব মিলিয়ে পুজোর শুরুতেই জমজমাট তেমাথানি। এখন দেখার, ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত দর্শনার্থীদের কাছে কতটা আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে পল্লীশ্রীর এই মন্দিরের আদলে গড়া পুজোমণ্ডপ।











