কলকাতা: পুজোর আনন্দের মাঝেই সপ্তমীর সন্ধ্যায় বিপত্তি। দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ের চাপে কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপের একটি গেটের একাংশ ভেঙে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। মুহূর্তের মধ্যে মণ্ডপ চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তৈরি হয় পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি। এই ঘটনায় কয়েকজন আহত এবং বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর। তাঁদের উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার পর দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপের প্রবেশপথ। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। শুরু হয় উদ্ধারকাজ। পুজো উদ্যোক্তারাও আটকে পড়া দর্শনার্থীদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজে হাত লাগান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শনিবার সন্ধ্যায় চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এরই মধ্যে বৃষ্টি বাড়তে থাকায় অনেকেই মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। ফলে প্রবেশপথে চাপ বাড়তে থাকে। সেই ভিড়ের চাপে গেটের একাংশ ভেঙে পড়ে বলে অভিযোগ। আচমকা এই ঘটনায় হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। দুর্ঘটনার জেরে বেশ কিছুক্ষণ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ বারের দুর্গাপুজোয় চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। মণ্ডপের আকর্ষণীয় সাজসজ্জা নিয়ে বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ায় দর্শনার্থীদের আগ্রহও বেড়েছিল। সেই কারণেই ভিড় আরও বেড়েছিল কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তার সঙ্গে দুর্ঘটনার সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ে। মণ্ডপের প্রবেশদ্বারের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি কলকাতার আরেক পরিচিত পুজো ত্রিধারা সম্মিলনীর প্রবেশপথও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে খবর।
পুজোর মরসুমে প্রতিদিনই কলকাতার বিভিন্ন মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। তার মধ্যে এই ঘটনা মণ্ডপের প্রবেশপথে ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে। আপাতত আহতদের চিকিৎসা এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়াই প্রশাসনের কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জ।














