নিজস্ব সংবাদদাতা, বেলদা: পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়, চারদিকে উৎসবের আবহ। অথচ মণ্ডপের একেবারে গা ঘেঁষে চলে গিয়েছে ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইন! এই দৃশ্য সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠছে পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদার সবুজপল্লি সার্বজনীন দুর্গোৎসব সোসাইটির পুজো মণ্ডপকে ঘিরে। প্যান্ডেল তৈরির আগে নিরাপত্তার বিষয়টি কি আদৌ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হয়েছিল? নাকি সবকিছু যাচাই না করেই মিলেছে অনুমতি? এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে দর্শনার্থীদের মধ্যে।
চলতি বছরে ১৭তম বর্ষে পদার্পণ করেছে সবুজপল্লির দুর্গোৎসব। কিন্তু উৎসবের আনন্দের মাঝেই মণ্ডপের পাশে থাকা উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইন ঘিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। দর্শনার্থীদের একাংশের প্রশ্ন, যেখানে হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত, সেখানে বিদ্যুৎ লাইনের নিরাপত্তা নিয়ে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে তো? কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে? প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটার পরে কি তবে টনক নড়বে প্রশাসনের?
পুজো কমিটির সহ-সভাপতি স্বপন ঘোষের বক্তব্য, বিদ্যুৎ লাইনটি প্যান্ডেল থেকে কিছুটা দূরে রয়েছে। তাঁর আরও দাবি, পুজোর জন্য অনুমতিও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনুমতি নেওয়া হয়েছে বলেই কি নিরাপত্তা নিয়ে সমস্ত প্রশ্নের অবসান ঘটে? অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী কী বিষয় খতিয়ে দেখেছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও সামনে আসেনি।
প্রশ্নটা শুধু অনুমতির নয়, প্রশ্ন মানুষের নিরাপত্তার। ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইনের এত কাছে পুজো মণ্ডপ থাকলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। প্রকৃত দূরত্ব ও নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং বিদ্যুৎ দফতরের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর পুজো মণ্ডপে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সেই পরিস্থিতিতে বেলদার এই মণ্ডপের ছবি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এখন দেখার, দর্শনার্থীদের এই উদ্বেগের পর প্রশাসন ও বিদ্যুৎ দফতর দ্রুত বিষয়টি পরিদর্শন করে কি না। নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও গাফিলতি রয়েছে কি না, তা তদন্ত করেই স্পষ্ট হওয়া দরকার। দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে দায় নির্ধারণের চেয়ে, দুর্ঘটনা আটকাতে আগাম ব্যবস্থা নেওয়াই কি প্রশাসনের প্রথম কাজ নয়?











