প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

EXCLUSIVE: গানের নাম বলার আগেই সুরের আন্দাজ! দৃষ্টিহীন সৌরভের অর্গান বাজানো অবাক করবে আপনাকেও

Published on: October 20, 2026
---Advertisement---

ইন্দ্রজিৎ সাহু: জন্ম থেকেই দু’চোখে দৃষ্টিশক্তি নেই। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে একাধিক। তবু মনের মধ্যে সংগীতের প্রতি ভালোবাসা আর নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার অদম্য ইচ্ছাশক্তি কোনও দিন হারিয়ে যেতে দেননি সৌরভ মাইতি। মাত্র আট বছর বয়সে শুরু হয়েছিল সংগীত শেখার পথচলা। আজ ২৬ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে সেই সাধনাই তাঁকে পরিচিতি দিয়েছে অর্কেস্ট্রার মঞ্চে। চোখে দেখতে না পেলেও গানের সুর শুনে অর্গানে স্কেল তুলে দেওয়ার দক্ষতায় চমকে দেন শ্রোতা থেকে সহ-শিল্পীদের।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা সৌরভের সংগীতের প্রতি টান ছোটবেলা থেকেই। আট বছর বয়সে শিক্ষিকা বৈশাখী পাত্র মাইতির হাত ধরে হারমোনিয়াম শেখা শুরু। পরে যোগেশচন্দ্র সামন্তের কাছেও সংগীতের তালিম নেন তিনি। কিন্তু শারীরিক অসুবিধার কারণে একসময় গান শেখার সেই পর্ব থমকে যায়। তবে সংগীতের প্রতি টান থামেনি। প্রতিকূলতার মধ্যেও নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যান সৌরভ।

এরপর শুরু হয় অর্গান শেখার অধ্যায়। নিমতৌড়ি স্কুলের শিক্ষক মদন খুঁটিয়ার কাছে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন তিনি। পরে শিক্ষক সুরেশ চন্দ্রকরের কাছেও অর্গান শেখেন। এক শিক্ষিকা ও দুই শিক্ষকের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা, নিরন্তর অনুশীলন এবং নিজের একাগ্রতায় ধীরে ধীরে অর্গান বাজানোর দক্ষতা অর্জন করেন সৌরভ।

২০১২ সাল থেকে শুরু তাঁর সংগীতজগতের পেশাদার পথচলা। দেখতে দেখতে কেটে গিয়েছে প্রায় ১৪ বছর। এই সময়ে বিভিন্ন অর্কেস্ট্রার মঞ্চে শিল্পীদের সঙ্গে অর্গান বাজিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রতিভার বিশেষত্ব হল, গানের সামান্য আভাস পেলেই উপযুক্ত স্কেল ধরে সুর তোলার চেষ্টা করেন সৌরভ। দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও শ্রবণশক্তি, অভিজ্ঞতা ও অনুশীলনের উপর ভর করেই তৈরি করেছেন নিজের দক্ষতা।

মঞ্চে কাজ করতে গিয়ে পেয়েছেন সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও প্রশংসা। এসেছে একাধিক পুরস্কারও। তবে সৌরভের কাছে এই সাফল্য শুধু পুরস্কার পাওয়ার গল্প নয়, বরং নিজের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলার এক দীর্ঘ লড়াই।

জীবনের প্রতিটি বাঁকে বাধা এসেছে, থমকে যাওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। কিন্তু সংগীতের প্রতি ভালোবাসাই তাঁকে বার বার নতুন পথ দেখিয়েছে। সৌরভের জীবন যেন মনে করিয়ে দেয়, প্রতিকূলতা মানুষের পথ কঠিন করতে পারে, কিন্তু দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও নিরন্তর সাধনা থাকলে স্বপ্নের দরজা বন্ধ করে দিতে পারে না। দু’চোখে দৃষ্টি না থাকলেও অর্গানের সুরে নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন পালপাড়ার সৌরভ মাইতি। তাঁর এই পথচলা আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now