পশ্চিম মেদিনীপুর: পিংলার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অজিত মাইতির বিরুদ্ধে ফের নতুন মামলা। এবার আইসিডিএস-এ চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৫ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে খড়গপুর লোকাল থানায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। সেই মামলায় অজিত মাইতিকে মেদিনীপুর আদালতে পেশ করা হলে তাঁকে চার দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সরকারি আইনজীবী জানিয়েছেন।
অভিযোগকারী বরুণ দে-র দাবি, ২০২৫ সালে তাঁর স্ত্রীর আইসিডিএস-এ চাকরির বিষয়ে অজিত মাইতির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তিনি। অভিযোগ, চাকরি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়। বরুণের দাবি, সেই টাকা অজিত মাইতির ছেলে অর্ক মাইতির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু পরবর্তীতে তাঁর স্ত্রীর চাকরি হয়নি বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে দেওয়া টাকাও ফেরত পাননি বলে দাবি করেছেন বরুণ। এরপর গত ২৬ সেপ্টেম্বর খড়গপুর লোকাল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ।
তদন্তের স্বার্থে অজিত মাইতিকে নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় পুলিশ। শুনানি শেষে মেদিনীপুর আদালত তাঁকে চার দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী পৌলমী কলা বেরা।
এই ঘটনার আগেই অজিত মাইতির বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা সামনে এসেছিল। সেখানে অভিযোগ ছিল, ২০১৬ সালে এক ব্যক্তিকে দলীয় পদ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৫ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। ওই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং আদালত চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন অজিত মাইতি। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই একের পর এক মামলা করা হচ্ছে। তাঁর আইনজীবী মৃণাল চৌধুরীরও বক্তব্য, একটি মামলার পর ধারাবাহিকভাবে আরও অভিযোগ যুক্ত করা হচ্ছে এবং সেগুলির কোনও ভিত্তি নেই।
ফলে আইসিডিএস-এ চাকরির নামে ৫ লক্ষ টাকা নেওয়ার নতুন অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক এবং আইনি মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। অভিযোগকারীর বক্তব্য, পুলিশের তদন্ত এবং অভিযুক্ত পক্ষের পাল্টা দাবি সব মিলিয়ে মামলাটি এখন তদন্তাধীন। চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে সত্যিই কোনও টাকা নেওয়া হয়েছিল কি না, অভিযোগে উল্লিখিত অর্থ কার হাতে গিয়েছিল এবং সেই লেনদেনের প্রকৃত কারণ কী? তদন্তের পরই তা স্পষ্ট হবে।











