পশ্চিম মেদিনীপুর: শহরের নাগরিক পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের মধ্যেই এবার বড়সড় চাপে মেদিনীপুর পৌরসভা। নিকাশি ব্যবস্থা, পানীয় জল সরবরাহ, বর্জ্য সংগ্রহ, অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ থেকে শুরু করে আর্থিক অনিয়ম একাধিক অভিযোগ নিয়ে রাজ্যের পৌর ও নগর উন্নয়ন দপ্তর এবার সরাসরি রিপোর্ট তলব করেছে।
জানা গিয়েছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর মেদিনীপুর পৌরসভায় পৌঁছেছে রাজ্যের চিঠি। তাতে পরিষেবা সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শহরের নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই একাধিক এলাকায় জল জমে যাওয়া, নিকাশি নালা নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়া এসব অভিযোগ নতুন নয়। এবার সেই বিষয়ও উঠে এসেছে রাজ্যের নজরে। একইসঙ্গে বর্জ্য সংগ্রহ নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত আবর্জনা সংগ্রহ করা হচ্ছে না। ফলে কোথাও কোথাও রাস্তার ধারে বা জনবসতির আশপাশে জমছে আবর্জনা, বাড়ছে দুর্গন্ধ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের আশঙ্কা।
পানীয় জল সরবরাহ নিয়েও রয়েছে ক্ষোভ। অভিযোগ, এখনও শহরের সব ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত পানীয় জল পৌঁছচ্ছে না। নাগরিক পরিষেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ক্ষেত্রেও ঘাটতির অভিযোগ রাজ্য দপ্তরের নজরে এসেছে বলে জানা যাচ্ছে।
অভিযোগের তালিকায় আরও রয়েছে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগে অনিয়ম এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রশ্ন। অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বজনপোষণের অভিযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে বরাদ্দ অর্থের সঠিক ব্যবহার হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে তথ্য-সহ স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে রাজ্য। মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে সেই রিপোর্ট জমা দিতে হবে মেদিনীপুর পৌরসভাকে।
এদিকে রাজ্যের চিঠি ঘিরে ইতিমধ্যেই পৌরসভার অন্দরে তৎপরতা শুরু হয়েছে। পৌরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান জানিয়েছেন, কিছুদিন আগে অস্থায়ী কর্মীদের কর্মবিরতির জেরে সাময়িকভাবে কিছু পরিষেবা ব্যাহত হয়েছিল। তবে বর্তমানে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং পরিষেবা স্বাভাবিক রয়েছে। রাজ্য যে রিপোর্ট চেয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সমস্ত তথ্য দিয়ে তা পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।
তবে নাগরিক পরিষেবা নিয়ে পরপর অভিযোগ এবং তার মধ্যেই রাজ্যের রিপোর্ট তলব দুই মিলিয়ে মেদিনীপুর পৌরসভাকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। এখন প্রশ্ন একটাই নিকাশি, পানীয় জল, বর্জ্য সংগ্রহ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে কী ব্যাখ্যা দেবে পৌরসভা? পাঁচ দিনের রিপোর্টে কী উঠে আসে, সেদিকেই নজর মেদিনীপুর শহরের।











