নিজস্ব সংবাদদাতা, ঘাটাল: এক দিকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের স্মৃতিবিজড়িত বীরসিংহ, অন্য দিকে জলে বিপর্যস্ত ঘাটালের বিস্তীর্ণ জনপদ। এই দুই ছবির মাঝেই বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মভিটে বীরসিংহ গ্রামে মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে মঙ্গলবার থেকেই প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। সাজিয়ে তোলা হয়েছে অনুষ্ঠানস্থল ও সংলগ্ন এলাকা। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। বীরসিংহ ভগবতী বিদ্যালয়ের মাঠে মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচিকে ঘিরে অস্থায়ী সিসিটিভি নজরদারি, ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তি পরিকাঠামো তৈরির পাশাপাশি হেলিপ্যাড ঘিরেও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রীর সফর উপলক্ষেই ওই প্রস্তুতি।
বিদ্যাসাগরের জন্মভিটে হিসেবে ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে বীরসিংহের। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর এই গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি পরে ‘বিদ্যাসাগর’ নামে বাংলা তথা গোটা দেশের সমাজ ও শিক্ষা সংস্কারের ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নেন।
তবে মুখ্যমন্ত্রীর সফরের দিন বীরসিংহের উৎসবের আবহের পাশাপাশি ঘাটালের বন্যা পরিস্থিতিও প্রশাসনের নজরে। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি এবং শিলাবতী নদীর জলস্তর বৃদ্ধির জেরে ঘাটাল ও চন্দ্রকোনার বহু এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। ঘাটাল পুরসভার একাধিক ওয়ার্ড-সহ সংলগ্ন গ্রামাঞ্চলে রাস্তা, বাড়িঘর ও কৃষিজমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। কোথাও যাতায়াতের ভরসা হয়ে উঠেছে নৌকা।
প্রশাসনিক মহলে আলোচনা রয়েছে, বীরসিংহের কর্মসূচির পাশাপাশি আকাশপথে ঘাটালের বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানস্থলের কাছে হেলিপ্যাড প্রস্তুত রাখার সরকারি ব্যবস্থাও সেই সফরসূচির অংশ। তবে বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনের চূড়ান্ত কর্মসূচি সরকারি ভাবে ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি সম্ভাবনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ফলে বুধবার সকাল থেকেই নজর থাকছে ঘাটালের দিকে। বিদ্যাসাগরের স্মৃতিবিজড়িত বীরসিংহে মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচির পাশাপাশি বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে তিনি কী বলেন এবং জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শনে যান কি না সে দিকেও তাকিয়ে ঘাটালবাসী।











