নিজস্ব সংবাদদাতা, সবং: রাজ্যজুড়ে বেআইনি মদ ও গাঁজার ঠেকের বিরুদ্ধে কড়া অভিযানের নির্দেশ। গ্রামগঞ্জ থেকে মাদকের আস্তানা উপড়ে ফেলার বার্তা। সাধারণ মানুষকেও এমন ঠেকের সন্ধান পেলে প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান। অথচ সেই নির্দেশের পরেও সবংয়ের একাধিক এলাকায় বেআইনি গাঁজা ও চোলাই মদের কারবার চলার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খাজুরি দশগ্রাম বাজার থেকে হরেকৃষ্ণ বুথ, নানকার মৌজা বিভিন্ন এলাকায় গোপনে চলছে গাঁজা ও চোলাই মদের কারবার। কোথাও বাজারের আশপাশে গোপন ডেরায় গাঁজা বিক্রির অভিযোগ, কোথাও আবার বসতি এলাকাতেই চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে হরেকৃষ্ণ বুথ এলাকায়। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনেই নাকি দিনের পর দিন গাঁজা বিক্রির কারবার চলছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বিক্রির অভিযোগ। আর রাত নামলেই বাড়ে নেশার আড্ডা। ফলে স্কুলপড়ুয়া থেকে সাধারণ বাসিন্দা এলাকার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
অন্যদিকে খাজুরি দশগ্রাম বাজার এলাকাতেও গোপন ডেরায় গাঁজা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি খাজুরি এলাকায় চোলাই মদ বিক্রিরও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন যদি এতদিন ধরে এই কারবার চলে থাকে, তাহলে আবগারি দফতরের নজরদারি কোথায়?
নানকার মৌজাতেও চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ, সারাদিন রোদে-জলে পরিশ্রম করে আসা শ্রমজীবী মানুষের একাংশ সেখানে চোলাই মদ কিনে নেশাগ্রস্ত হয়ে বাড়ি ফেরেন। তারপর বাড়িতে শুরু হয় অশান্তি। অর্থের অপচয়, পারিবারিক বিবাদ থেকে সামাজিক সমস্যাও বাড়ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর বেআইনি মদ ও মাদকের ঠেক নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতার প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সবংয়ের বিভিন্ন প্রান্তে যদি সত্যিই মদ ও গাঁজার ঠেক সক্রিয় থাকে, তাহলে কাদের ছত্রছায়ায় চলছে এই কারবার? প্রশাসনের চোখের সামনে কীভাবে গড়ে উঠছে একের পর এক নেশার আস্তানা? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে এলাকায়।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে ধরলেই হবে না। কোথা থেকে আসছে গাঁজা, কোথায় তৈরি হচ্ছে চোলাই, কারা এর পিছনে রয়েছে এবং কারা নিয়মিত এই কারবার চালাচ্ছে সবটাই খতিয়ে দেখা দরকার। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই এখন প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। মাদকের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা যদি বাস্তবে কার্যকর হয়, তাহলে সবংয়ের অভিযোগ ওঠা এলাকাগুলিতেও দ্রুত অভিযান দেখতে চান সাধারণ মানুষ।











