নিজস্ব সংবাদদাতা: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের মনোনয়ন পর্বেই বড়সড় রাজনৈতিক মোড়। শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে নিজের প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করার পরই নন্দীগ্রাম নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন মমতা। জানালেন, এই কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করবে তাঁর শিবির। রেজিনগর উপনির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।
শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে কংগ্রেসকে ‘সিস্টার পার্টি’ বলেও উল্লেখ করেন মমতা। তাঁর বক্তব্যে বিরোধী শিবিরের মধ্যে সহযোগিতার বার্তাও উঠে আসে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নন্দীগ্রামের প্রার্থী প্রত্যাহারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা করেন তিনি।
একই সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েও একাধিক অভিযোগ তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে তাঁর দলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। ইভিএম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে এগুলি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অভিযোগ এই দাবিগুলির স্বাধীন সত্যতা এখানে প্রতিষ্ঠিত নয়।
তৃণমূলের নাম ও পুরনো প্রতীক ব্যবহার সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়া নিয়েও এদিন প্রকাশ্যে মুখ খোলেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, উপনির্বাচনের প্রক্রিয়া চলতে থাকায় আপাতত বিকল্প নাম ও প্রতীকের ব্যবস্থা করা হলেও পুরনো রাজনৈতিক পরিচয় ফিরে পাওয়ার দাবি থেকে তিনি সরছেন না। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তে তৃণমূলের বিবদমান শিবিরগুলিকে পৃথক নাম ও প্রতীক নিয়ে উপনির্বাচনে নামার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মমতা আরও জানান, দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যে সংগঠন তৈরি হয়েছে, সেই দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অটুট থাকবে। দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে চলা বিরোধের আইনি ও সাংগঠনিক লড়াইও চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের সমর্থন পাওয়ার পর কংগ্রেস শিবিরেও নতুন রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের বক্তব্য, তৃণমূলের দিকে চলে যাওয়া পুরনো কংগ্রেস সমর্থকদের ফিরে আসার জন্য তাঁদের দরজা খোলা রয়েছে।
তবে দিনের রাজনৈতিক নাটক এখানেই শেষ হয়নি। মমতার সমর্থন ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে একটি পুরনো মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে বলে শুক্রবার সন্ধ্যায় একাধিক সংবাদমাধ্যম জানায়। ফলে সঞ্চিতার প্রার্থীপদ প্রত্যাহার, কংগ্রেসকে মমতার সমর্থন এবং তার পর মিলন প্রধানের গ্রেফতার পরপর ঘটনায় নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও ঘটনাবহুল হয়ে উঠেছে।











