নিজস্ব সংবাদদাতা: আকাশ কালো করে নেমেছে মুষলধারে বৃষ্টি। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া, কোথাও আবার বজ্রপাতের আতঙ্ক। সাধারণ মানুষ যখন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরে, তখনও কাজ থামে না তাঁদের। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ুক, তার ছিঁড়ে যাক কিংবা ঝড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ুক বিদ্যুৎ সংযোগ খবর পেলেই নিজের জীবন বাজি রেখে ছুটে যান বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরা। লক্ষ্য একটাই, দ্রুত মানুষের ঘরে ফিরিয়ে দিতে হবে আলো।
বর্ষার মরশুমে ঝড়-বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ পরিষেবা বিপর্যস্ত হওয়া নতুন ঘটনা নয়। কোথাও গাছ পড়ে ছিঁড়ে যায় বিদ্যুতের তার, কোথাও ভেঙে পড়ে খুঁটি। আবার জলমগ্ন এলাকায় মেরামতির কাজ হয়ে ওঠে আরও ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু প্রতিটি পরিস্থিতিতেই নিজেদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেও পরিষেবা স্বাভাবিক করতে মাঠে নামেন বিদ্যুৎকর্মীরা।
বৃষ্টির মধ্যেই চলে যুদ্ধকালীন তৎপরতা। মাথার উপর ঝমঝম করে বৃষ্টি, চারপাশে জল তার মধ্যেই নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিয়ে মেরামতির কাজে ব্যস্ত কর্মীরা। কখনও রাস্তার ধারে, কখনও জলমগ্ন এলাকায়, আবার কখনও গভীর রাতে আলো হাতে ছুটতে হয় তাঁদের। দীর্ঘ সময় ধরে পরিশ্রমের পর যখন একের পর এক বাড়িতে জ্বলে ওঠে আলো, তখনই যেন সার্থক হয় তাঁদের সমস্ত ঝুঁকি ও পরিশ্রম।
শুধু দিনের বেলায় নয়, রাত বাড়লেও থামে না তাঁদের কাজ। কারণ একটি এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া মানেই বন্ধ হয়ে যায় বহু পরিবারের দৈনন্দিন জীবন। সমস্যায় পড়ে পড়ুয়াদের পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে হাসপাতাল ও জরুরি পরিষেবাও। তাই দ্রুত পরিষেবা সচল করাই হয়ে ওঠে তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
ঝড়ের তাণ্ডব কিংবা বজ্রপাতের আশঙ্কা সবকিছুর মধ্যেও মানুষের স্বার্থে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন বিদ্যুৎকর্মীরা। তাঁদের পরিশ্রমের ফলেই দুর্যোগের পর দ্রুত অন্ধকার কাটিয়ে আলো ফিরে আসে অসংখ্য বাড়িতে। আলো জ্বলে ওঠে ঘরে ঘরে, আর তার নেপথ্যে থাকে এই নিরলস লড়াই। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও সাধারণ মানুষের পাশে থেকে পরিষেবা দিয়ে চলা বিদ্যুৎকর্মীদের এই কর্তব্যনিষ্ঠা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁদের প্রতি রইল আন্তরিক শ্রদ্ধা ও কুর্নিশ।











