প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

Flood Update: পাঁচ দিন ধরে জলের তলায় খাউখান্ডা, ঘরের ভিতর জল! বাঁশের পাটাতনের উপর শিশু নিয়ে দিনযাপন, ত্রাণ না মেলায় ক্ষোভ বন্যাকবলিত সাধারণ মানুষের

Published on: August 19, 2026
---Advertisement---

নিজস্ব সংবাদদাতা, সবং: টানা প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা। দশগ্রাম, সারতা, বিষ্ণুপুর-সহ একাধিক অঞ্চলের পাশাপাশি ভয়াবহ জলযন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছেন দশগ্রাম অঞ্চলের খাউখান্ডা মৌজার বাসিন্দারা। স্থানীয়দের দাবি, গত প্রায় পাঁচ দিন ধরে এই মৌজার ৩০ থেকে ৩৫টি বাড়ি জলের তলায় রয়েছে। জল ঢুকেছে একাধিক বাড়ির ঘরেও। ফলে কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন বহু পরিবার।

জলবন্দি পরিস্থিতিতে কেউ আশ্রয় নিয়েছেন স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, কেউ আবার প্রতিবেশীর বাড়িতে। বাড়িতে থাকা পরিবারগুলির দুর্ভোগও কম নয়। ঘরের মধ্যে জল ঢুকে পড়ায় কোথাও বাঁশের পাটাতন তৈরি করে তার উপর শিশুদের নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। একদিকে ঘরে জল, অন্যদিকে বিদ্যুৎহীনতা সব মিলিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে বাসিন্দাদের।

শুধু মানুষ নয়, গবাদি পশু নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। বাড়িঘর জলমগ্ন হওয়ায় গরু-ছাগলকে নিরাপদ রাখতে উঁচু বাঁধের উপর রাখা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে জল জমে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত বিপর্যস্ত। স্থানীয়দের দাবি, খাউখান্ডা মৌজার সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রও জলের তলায় চলে গিয়েছে। ফলে প্রয়োজনের সময়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। জলবন্দি অবস্থায় শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন পরিবারগুলি।

এমন দুর্যোগের মধ্যেই প্রশাসনিক সহায়তা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, গত পাঁচ দিন ধরে জলবন্দি থাকলেও এখনও পর্যন্ত এলাকায় কোনও ত্রাণ পৌঁছয়নি। সরকারি ভাবে কোনও জনপ্রতিনিধিও তাঁদের পরিস্থিতি দেখতে আসেননি বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের কথায়, শুধুমাত্র আশা কর্মীরা এলাকায় এসে খোঁজখবর নিয়েছেন। কিন্তু খাবার, পানীয় জল, প্রয়োজনীয় ওষুধ কিংবা অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী এখনও তাঁদের হাতে পৌঁছয়নি।

জলযন্ত্রণা থেকে দ্রুত মুক্তি চান খাউখান্ডার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করার দাবিও উঠেছে। প্রবল বৃষ্টির পর অনেক এলাকায় জল কিছুটা কমলেও খাউখান্ডা মৌজার বহু পরিবার এখনও জলবন্দি। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের আশায় দিন গুনছেন দুর্গত বাসিন্দারা।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now