ইন্দ্রজিৎ সাহু: ভোটের আগে প্রতিশ্রুতির বন্যা, ভোটের পরে নীরবতা! আর সেই নীরবতার মূল্য চুকিয়ে চলেছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার ট্যাবাগেড়িয়া এলাকার হাজার হাজার মানুষ। কংসাবতী নদীর উপর একটি স্থায়ী সেতুর দাবিতে কেটে গিয়েছে চার দশকেরও বেশি সময়। সরকার বদলেছে, জনপ্রতিনিধি বদলেছেন, কিন্তু বদলায়নি মানুষের দুর্ভোগ। বর্ষা এলেই নদীর জল বাড়ে, আর তার সঙ্গে ভেসে যায় যোগাযোগের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো ও অস্থায়ী বাঁধ।
কয়েকদিনের জন্য কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দুই পাড়ের মানুষ। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে ভাসাপুল তৈরি হলেও, সেটিও সাময়িক ব্যবস্থা। প্রতিদিন সেই ভাসাপুল দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন ছাত্রছাত্রী, কর্মজীবী মানুষ, রোগী এবং সাধারণ পথচারীরা। স্থানীয়দের প্রশ্ন, আর কতদিন এভাবেই চলবে? একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করতে ৪০ বছরও কি যথেষ্ট নয়?এলাকার প্রবীণদের অভিযোগ, বারবার দাবি জানানো হয়েছে, স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে, জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মেলেনি স্থায়ী সমাধান। শুধু আশ্বাস মিলেছে, কাজের অগ্রগতি দেখা যায়নি।
নিত্যযাত্রীদের বক্তব্য, ভাসাপুল পার হওয়া প্রতিদিনই এক ধরনের ঝুঁকি। বর্ষার স্রোত বেড়ে গেলে আতঙ্ক আরও বাড়ে। তবুও বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়েই সেই পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। সম্প্রতি প্রশাসনের প্রতিনিধিরা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তবে এলাকাবাসীর স্পষ্ট বক্তব্য, পরিদর্শন নয়, এবার চাই কাজের সূচনা। টাবাগেড়িয়া সংলগ্ন কংসাবতী নদীর উপর একটি স্থায়ী সেতু এখন শুধু উন্নয়নের দাবি নয়, হাজার হাজার মানুষের নিরাপদ যাতায়াতের মৌলিক প্রয়োজন। প্রশ্ন একটাই আর কত বর্ষা পার হলে মিলবে সেই প্রতীক্ষিত ব্রিজ?











