অরিজিৎ দাস অধিকারী, শিক্ষক: টানা বৃষ্টি ও নদীর জলস্তর বৃদ্ধিতে সবং ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত জলের তলায়। কোথাও চাষের জমি ডুবে গিয়েছে, কোথাও আবার জল ঢুকে পড়েছে বসতবাড়িতে। দুর্যোগের এমন কঠিন সময়ে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার নজির গড়ল সবং শহীদ স্মৃতি সমবায় কৃষি উন্নয়ন লিমিটেড।
বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যখন সবংয়ে উপস্থিত, ঠিক সেই দিনই সমবায়ের উদ্যোগে প্রায় ১০০টি দুর্গত পরিবারের হাতে পৌঁছে দেওয়া হল ত্রাণসামগ্রী। জলমগ্ন এলাকা পেরিয়ে দুর্গত মানুষের বাড়িতে পৌঁছে মুড়ি, ছোলা ভাজা, বিস্কুট, ডিম, ছোলার ছাতু-সহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী পরিবারের হাতে তুলে দেন সমবায়ের সদস্য ও সহযোগীরা। সমবায়ের প্রবন্ধক অভিজিৎ সামন্ত বলেন, “মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক কর্তব্য। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই সাধ্যমতো মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন এলাকায় আর্থিক ও সামাজিক সহায়তা করা হয়েছে। কিন্তু বন্যায় মানুষের ঘরবাড়ি ও জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হওয়ার দৃশ্য সত্যিই বেদনাদায়ক।”
ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সবং ব্লকের সমবায় পরিদর্শক সুপ্রিয় ব্যানার্জি, বিদ্যাসাগর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের সবং শাখার প্রবন্ধক প্রণয় চক্রবর্তী, সুপারভাইজার দেবদুলাল দাস ও সুবীর মান্না। দুর্গত পরিবারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন তাঁরা। পাশাপাশি, এই কঠিন পরিস্থিতিতে সমাজের অন্যান্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেও বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানানো হয়।
ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজে সহযোগিতা করেন সুভাষ ভূঞ্যা, গোবিন্দ মাজি, রঞ্জন ভূঞ্যা, শিক্ষক অনুপম বেরা, তরুণ নায়েক ও চন্দন ঘোড়াই-সহ অন্যান্যরা। দুর্যোগের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী হাতে পেয়ে স্বস্তির হাসি ফুটে ওঠে দুর্গত পরিবারের মুখে। ছায়া সামন্ত ও অঞ্জলী বেরা-সহ বহু মানুষ সমবায়ের উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে রামপদ জানা ও গৌরী দাসের আবেগঘন কথায় উঠে আসে বন্যার্ত মানুষের অসহায়তার ছবি“কতদিন পরে ছেলেটাকে ডিম দিতে পারব। তোমাদের মঙ্গল হোক।”
সবংয়ের এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। এবার বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ বিতরণের উদ্যোগও সেই সামাজিক দায়বদ্ধতারই প্রতিফলন। সমবায়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্যোগ যতদিন থাকবে, ততদিন সাধ্যমতো মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে। পাশাপাশি অন্যদেরও এগিয়ে এসে বন্যাদুর্গত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানানো হয়েছে।











