নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর: দলীয় পদ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১৫ লক্ষ টাকা চাওয়ার অভিযোগ! টাকা না দিলে পদ কেড়ে নেওয়া থেকে রাজনৈতিক জীবন শেষ করে দেওয়া, এমনকি প্রাণনাশের হুমকিরও অভিযোগ উঠল পিংলার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অজিত মাইতির বিরুদ্ধে। অভিযোগ দায়েরের দু’দিনের মাথায় শুক্রবার ভোরে মাদপুরের বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে গ্রেফতার করল পিংলা থানার পুলিশ। পরে তাঁকে ডেবরা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবারই মেদিনীপুর জেলা আদালতে তাঁকে হাজির করানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
কিন্তু কেন গ্রেফতার করা হল পিংলার প্রাক্তন বিধায়ককে? অভিযোগকারী গোবিন্দ দাস বর্তমানে বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক। তাঁর অভিযোগ, ২০১৬ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের পিংলা ব্লকের জামনা-২ অঞ্চলের সভাপতি ছিলেন। সেই সময় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন অজিত মাইতি।
গোবিন্দের অভিযোগ, সেই সময় তাঁকে পিংলা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল। প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনেও গোবিন্দ দাসের দায়ের করা অভিযোগে দলীয় পদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে ১৫ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগের কথা উঠে এসেছে।
গোবিন্দের আরও দাবি, ওই সময় তিনি প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার হোম লোন পেয়েছিলেন। সেই খবর জানার পর তাঁর উপর ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ তৈরি করা হয়। টাকা না দিলে ব্লক সভাপতির পদ তো দূরের কথা, অঞ্চল সভাপতির পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ।
অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। গোবিন্দের দাবি, তাঁর রাজনৈতিক জীবন শেষ করে দেওয়া, বাড়ি নির্মাণে বাধা দেওয়া এবং প্রাণে মেরে দেহ লোপাট করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় ভয় ও রাজনৈতিক চাপের কারণে তিনি থানায় অভিযোগ জানানোর সাহস পাননি বলেও দাবি করেছেন।
দীর্ঘ প্রায় এক দশক পরে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর পিংলা থানায় অজিত মাইতির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন গোবিন্দ দাস। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয় বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ। তার পর শুক্রবার ভোরে মাদপুর স্টেশন সংলগ্ন অজিত মাইতির বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করে প্রথমে থানায় এবং পরে ডেবরা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই গ্রেফতারিকে অবশ্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন অজিত মাইতি। ডেবরা থানায় নিয়ে যাওয়ার আগে তিনি বলেন, তাঁর গ্রেফতারি রাজনৈতিক কারণে হয়েছে এবং পুলিশ-প্রশাসনের উপর তাঁর আস্থা রয়েছে।
অজিত মাইতি পিংলার প্রাক্তন বিধায়ক এবং বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি। দীর্ঘদিন তিনি তৃণমূলের জেলা সাংগঠনিক দায়িত্বেও ছিলেন। তাঁর মতো জেলার পরিচিত রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে দলীয় পদ দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ এবং তার পর গ্রেফতারির ঘটনায় পশ্চিম মেদিনীপুরের রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। তবে গোবিন্দ দাসের তোলা হুমকি-সহ সব অভিযোগই এই মুহূর্তে অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। আদালতে অভিযোগগুলি প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় শেষ পর্যন্ত কী উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর।











