নিজস্ব সংবাদদাতা, ডেবরা: বন্যা এলে সাধারণ মানুষের ভরসা সরকারি ত্রাণ। মাথার উপর ত্রিপল, শীতের সময় কম্বল দুর্যোগের দিনে অসহায় মানুষের কাছে এই সামগ্রীই হয়ে ওঠে শেষ আশ্রয়। অথচ সেই সরকারি ত্রাণই যদি রাজনৈতিক নেতার গোডাউনে মজুত থাকার অভিযোগ ওঠে, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই ত্রাণ কি মানুষের জন্য, নাকি নেতার গোডাউনের জন্য? ডেবরায় এমনই বিস্ফোরক অভিযোগকে ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে ডেবরা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি তথা ডেবরা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ সীতেশ ধাড়া।
ডেবরা পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা রতন দে-র অভিযোগ, সীতেশ ধাড়ার ভাড়া নেওয়া একটি গোডাউন ঘরের তালা খুলে ভিতরে ঢুকতেই চোখ কপালে ওঠে স্থানীয়দের। সেখানে নাকি মজুত রয়েছে প্রায় এক লরি সরকারি ত্রাণসামগ্রী! অভিযোগ অনুযায়ী, গোডাউন থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১,০০০টি সরকারি ত্রিপল, ২,০০০টি কম্বল, প্রচুর জামাকাপড়, সাদা থান এবং সাবমার্সিবল পাম্পের পাইপ। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় উদ্ধার হওয়া ত্রিপলগুলিতে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে ‘বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর’।
তাহলে প্রশ্ন উঠছে, বিপর্যয়ের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আসা সরকারি ত্রাণ কীভাবে একজন রাজনৈতিক নেতার গোডাউনে পৌঁছল? বর্ষার আগে বন্যাপ্রবণ এলাকার মানুষের হাতে পৌঁছনোর কথা ছিল যে সামগ্রী, তা কেন গোডাউনে পড়ে রইল?বিরোধীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষ যখন দুর্যোগের সময় ত্রাণের আশায় প্রশাসনের দরজায় ঘোরেন, তখন সেই ত্রাণসামগ্রীই যদি কোথাও গোপনে মজুত রাখা হয়, তার চেয়ে বড় দুর্ভাগ্য আর কী হতে পারে!
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত, প্রয়োজনে গ্রেফতার এবং দোষ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছে বিরোধী শিবির। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে দ্রুত তুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
তবে গোটা ঘটনায় এখন বড় প্রশ্ন এই বিপুল সরকারি সামগ্রী কার মাধ্যমে গোডাউনে এল? সরকারি নথিতে এগুলির হিসাব কী? কার নির্দেশে কোথায় বিলি হওয়ার কথা ছিল? আর কেনই বা তা এতদিন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রইল? অভিযোগের বিষয়ে সীতেশ ধাড়ার বক্তব্য জানতে ফোন করা হলেও তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এখন নজর প্রশাসনের তদন্তের দিকে। সরকারি ত্রাণের এই বিপুল মজুত কি নিছক গাফিলতি, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও রহস্য? উত্তর মিলবে তদন্তেই।











