প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

অগ্নি-নিরাপত্তায় জোর খড়গপুর ডিভিশনের, রেলকর্মীদের হাতে-কলমে বিশেষ প্রশিক্ষণ

Published on: September 21, 2026
---Advertisement---

নিজস্ব সংবাদদাতা, খড়গপুর: রেল স্টেশন কিংবা রেল চত্বরে আচমকা অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে কীভাবে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে, কীভাবে প্রাথমিক পর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায় সেই দক্ষতা বাড়াতেই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের খড়গপুর ডিভিশন। খড়গপুরের RPF/Zonal Training Institute-এ নিয়মিত আয়োজন করা হচ্ছে সাপ্তাহিক ‘Fire Fighting and Fire Safety’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির।

মূলত রেলের ফ্রন্টলাইন কর্মীদের অগ্নি-নিরাপত্তা সম্পর্কে আরও সচেতন ও দক্ষ করে তুলতেই এই প্রশিক্ষণের আয়োজন। এতে অংশ নিচ্ছেন মাঠপর্যায়ে কর্মরত কমার্শিয়াল বিভাগের কর্মী, ডিভিশনাল অফিসের রেলকর্মী, আউটসোর্সিং কর্মী এবং দক্ষিণ-পূর্ব রেলের সেন্ট জন অ্যাম্বুল্যান্স ব্রিগেডের সদস্যরা।

পশ্চিম মেদিনীপুরের ডিভিশনাল ফায়ার অফিসারের সহযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গ দমকল বিভাগের বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে চলছে এই প্রশিক্ষণ। ১০ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই সাপ্তাহিক কর্মসূচি চলবে আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতি সোমবার আয়োজিত হচ্ছে প্রশিক্ষণ শিবির। সোমবার খড়গপুরে সপ্তম ব্যাচের ফ্রন্টলাইন কর্মীরা অগ্নিনির্বাপণ ও অগ্নি-নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ ও ঝুঁকি চিহ্নিত করা, অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে প্রাথমিক সতর্কতা, বিভিন্ন ধরনের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের ব্যবহার, পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক অগ্নিনির্বাপক নির্বাচন, অগ্নিকাণ্ডের পর প্রথম কয়েক মিনিটে কী করণীয়, কীভাবে মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হবে। এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে শেখানো হচ্ছে।

শুধু তাত্ত্বিক পাঠেই সীমাবদ্ধ থাকছে না প্রশিক্ষণ। হাতে-কলমে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহারের কৌশলও শেখানো হচ্ছে কর্মীদের। বাস্তব পরিস্থিতির অনুকরণে প্রদর্শনের মাধ্যমে বোঝানো হচ্ছে, জরুরি মুহূর্তে কীভাবে দ্রুত এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। রেল কর্তৃপক্ষের মতে, অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনায় প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই সময় ফ্রন্টলাইন কর্মীরা যদি সঠিকভাবে প্রাথমিক পদক্ষেপ নিতে পারেন, তবে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই কর্মীদের আত্মবিশ্বাস এবং বাস্তব দক্ষতা বাড়ানোর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

খড়গপুর ডিভিশনের এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য শুধু কর্মীদের প্রশিক্ষিত করা নয়, বরং যাত্রী, রেলকর্মী এবং রেলের সম্পত্তির নিরাপত্তা আরও জোরদার করা। নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সচেতনতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া গড়ে তোলাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। নিরাপদ রেল পরিষেবা নিশ্চিত করতে আগামী দিনেও এই ধরনের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে খড়গপুর ডিভিশন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now