নিজস্ব সংবাদদাতা, খড়্গপুর: চেয়ারম্যানের চেয়ার ঘিরে রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেই সোমবার কার্যত ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হল পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুর পুরসভায়। মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভে শামিল হলেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। সেই তালা খুলতে যেতেই পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের শুরু হয় ধস্তাধস্তি। মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা পুরসভা চত্বর। বিক্ষোভের জেরে ব্যাহত হয় পুরসভার সামনের রাস্তায় যান চলাচল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
কিন্তু কেন এই উত্তেজনা? ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে খড়্গপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচন। সম্প্রতি পুরপ্রধান কল্যাণী ঘোষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন প্রাক্তন পুরপ্রধান প্রদীপ সরকার। গত ৫ অক্টোবর অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন ২৪ জন কাউন্সিলর। ফলে পুরপ্রধানের পদ হারান কল্যাণী ঘোষ। সোমবার, ১২ অক্টোবর নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের কথা ছিল। আর সেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই সকাল থেকে সরগরম হয়ে ওঠে পুরসভা চত্বর।
বিজেপির দাবি, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কোনও ব্যক্তিকে পুরপ্রধানের চেয়ারে বসতে দেওয়া যাবে না। এই দাবিতে পুরসভার প্রবেশপথ আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় তৈরি হয় অচলাবস্থা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় খড়্গপুর টাউন থানার পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে গেট খোলার চেষ্টা করতেই পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় ধস্তাধস্তি।
অভিযোগ উঠেছে, এই উত্তেজনার মধ্যেই পুরসভায় প্রবেশ করতে যাওয়া কয়েক জন তৃণমূল কাউন্সিলরের গাড়ি আটকানো হয়। গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও সামনে এসেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরেরা।
প্রসঙ্গত, খড়্গপুর পুরসভায় চেয়ারম্যান পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক টানাপড়েন চলছে। একসময় পুরপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন প্রদীপ সরকার। পরে তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পান কল্যাণী ঘোষ। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধেও অনাস্থা প্রস্তাব পাশ হওয়ায় নতুন করে শুরু হয়েছে ক্ষমতার লড়াই।
এ বার সেই লড়াই গড়াল পুরসভার মূল ফটক থেকে রাজপথে। একদিকে চেয়ারম্যান নির্বাচন, অন্যদিকে বিজেপির বিক্ষোভ এবং পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি সব মিলিয়ে সোমবার কার্যত রাজনৈতিক উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল খড়্গপুর পুরসভা। এখন প্রশ্ন একটাই, শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে খড়্গপুর পুরসভার দায়িত্ব? আর এই রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যে সাধারণ মানুষের পুর-পরিষেবা কতটা স্বাভাবিক থাকবে?











