নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রায় আঠারো বছর পর বাড়ির দরজায় এসে দাঁড়িয়েছিলেন জামাই। এত বছর পর পরিচিত মুখ দেখে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছিল আবেগ। রাতে একসঙ্গে খাওয়া, দীর্ঘক্ষণ গল্প সবই চলেছিল স্বাভাবিক ছন্দে। অথচ কয়েক ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সেই বাড়িতেই হাজির STF। ভোরের অভিযানে গ্রেফতার হলেন অসীম মণ্ডল। ঘটনাটি পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর থানার নৈপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মনীনাথপুর গ্রামের। ধৃত অসীম মণ্ডলের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা থানা এলাকায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অসীমের সঙ্গে মনীনাথপুরের মাইতি পরিবারের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল ছাত্রজীবনেই। গড়বেতা কলেজে পড়ার সময় নিতাইচন্দ্র মাইতির ছেলে কেদারের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব হয়। বন্ধুত্বের সূত্রে ওই বাড়িতে যাতায়াত এবং পরে কেদারের বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। পরবর্তীতে তাঁদের বিয়ে হয়।
সূত্রের দাবি, ছাত্রজীবনের পর থেকেই অসীমের নাম অতি-বামপন্থী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগও সামনে আসে। পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য অতীতে মাওবাদী যোগের কথা স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তবে অসীম দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন।
অসীমের শ্যালক খোকন মাইতির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ১৮ বছর পর বুধবার রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। অসুস্থ শশুর নিতাই নিতাই মাইতিকে দেখতে। রাত প্রায় ৯টা নাগাদ বাড়িতে পৌঁছে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। খাওয়াদাওয়া শেষে গল্প করে রাতে ঘুমিয়ে পড়েন। এরপরই নাটকীয় মোড়। ভোরবেলায় মনীনাথপুরের ওই বাড়িতে পৌঁছে যায় STF-এর দল। বাড়ি থেকে অসীমকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়।
একদিকে প্রায় দু’দশক পর পরিবারের সঙ্গে দেখা, অন্যদিকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশেষ বাহিনীর অভিযান এই দুই ঘটনার মাঝেই এখন আলোচনার কেন্দ্র মনীনাথপুরের মাইতি পরিবার। অসীম এত বছর কোথায় ছিলেন, কেন আচমকা শ্বশুরবাড়িতে ফিরেছিলেন এবং তাঁর সাম্প্রতিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক কী এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় তৈরি হয়েছে কৌতূহল ও চাঞ্চল্য। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা এক ব্যক্তির ১৮ বছর পর শ্বশুরবাড়ি ফেরা এবং সেই রাতেই তাঁর অবস্থানের খবর STF-এর কাছে পৌঁছে যাওয়ার ঘটনাও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।











