নিজস্ব সংবাদদাতা, ময়না: পানের বরোজের ভিতর থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় এক মহিলার বিবস্ত্র মৃতদেহ উদ্ধার ঘটনাকে ঘিরে তোলপাড় পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার পূর্ব দক্ষিণ ময়না গ্রাম। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় টানা তদন্তের পর দু’জনকে গ্রেফতার করেছে ময়না থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম অমিত অধিকারী ও বাদল চন্দ্র মণ্ডল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মহিলা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। গত বুধবার গ্রামের একটি পানের বরোজে তাঁর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। অভিযোগ, মহিলার হাত-পা ও মুখ বাঁধা ছিল, দেহ ছিল সম্পূর্ণ বিবস্ত্র অবস্থায়। দৃশ্য দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
বরোজের মালিক প্রথমে বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের খবর দেন। পরে খবর যায় ময়না থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং গোটা এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করে। ঠিক কীভাবে মৃত্যু হল, মৃত্যুর আগে মহিলার সঙ্গে কী ঘটেছিল এবং কেন তাঁর হাত-পা ও মুখ বাঁধা ছিল। এই একাধিক প্রশ্নকে সামনে রেখেই শুরু হয় তদন্ত।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় শুরু হয় নানা জল্পনা। কে বা কারা মহিলাকে ওই বরোজে নিয়ে গিয়েছিল, ঘটনার পিছনে কোনও পরিকল্পিত অপরাধ রয়েছে কিনা! তা খতিয়ে দেখতে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর প্রায় দু’দিনের মাথায় অমিত অধিকারী ও বাদল চন্দ্র মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়।
ধৃতদের ময়না থানা থেকে তমলুক জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় তাঁদের নির্দিষ্ট ভূমিকা কী, মহিলার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না সেসব এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
পানের বরোজে এমন অবস্থায় মহিলার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এখনও আতঙ্ক কাটেনি এলাকাবাসীর। এখন পুলিশের তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টেই এই রহস্যমৃত্যুর আসল কারণ সামনে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।











