নিজস্ব সংবাদদাতা, বেলদা: মোবাইলের স্ক্রিনে ভেসে উঠেছিল একটি ‘আপডেট’ অপশন। সেটিতে ক্লিক করতেই আচমকা বন্ধ ফোন, তারপর রিস্টার্ট। প্রথমে বিষয়টিকে সাধারণ সফটওয়্যার আপডেট বলেই মনে করেছিলেন ব্যবহারকারী। কিন্তু কিছুক্ষণ পর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চোখ রাখতেই চক্ষু চড়কগাছ! অভিযোগ, অজান্তেই অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে ১২ হাজার ৯০০ টাকা। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদায়। প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা রবীন্দ্র বারিকের।
রবীন্দ্রবাবুর দাবি, হঠাৎ তাঁর মোবাইল ফোনটি কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ঠিক সেই সময় স্ক্রিনে ‘আপডেট’ করার একটি অপশন দেখা যায়। কোনও সন্দেহ না করেই সেটিতে ক্লিক করেন তিনি। এরপর ফোনটি বন্ধ হয়ে যায় এবং কিছুক্ষণ পর ফের রিস্টার্ট হয়। এ পর্যন্ত সবই স্বাভাবিক মনে হয়েছিল। কিন্তু বিপত্তি ধরা পড়ে কিছুক্ষণ পর।
এক পরিচিত ব্যক্তি তাঁকে ফোন করে টাকা পাঠানোর কথা জানান। সেই টাকা লেনদেন করতে মোবাইল খুলতেই নজরে আসে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হিসাব। আর সেখানেই ধাক্কা! অভিযোগ, তাঁর অজান্তে ১২,৯০০ টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে বেরিয়ে গিয়েছে।
অভিযোগকারী জানিয়েছেন, ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর প্রাথমিকভাবে তিনি জানতে পারেন, Paytm-এর মাধ্যমে ওই টাকা ‘শিবম রাজপুত’ নামে একটি অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হয়েছে। তবে ওই নামের ব্যক্তির সঙ্গে ঘটনার সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও পরিষ্কার নয়। টাকা উধাও হওয়ার ঘটনা সামনে আসতেই দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের দ্বারস্থ হন রবীন্দ্র বারিক। পাশাপাশি থানাতেও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে এ কি নিছক কাকতালীয় ঘটনা, নাকি মোবাইলের ‘আপডেট’-এর আড়ালেই ছিল সাইবার প্রতারণার ফাঁদ? কোনও ভুয়ো সফটওয়্যার বা ক্ষতিকারক অ্যাপ ফোনে ঢুকে পড়েছিল কি না, নাকি অন্য কোনওভাবে ব্যাংকিং তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেটাই এখন তদন্তের মূল বিষয়।
ঘটনার পর এলাকায় ছড়িয়েছে উদ্বেগ। কারণ এখন আর শুধু OTP বা অচেনা ফোনকল নয়, মোবাইলের একটি সাধারণ ‘আপডেট’ অপশনকেও ঘিরে তৈরি হয়েছে সন্দেহ। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মোবাইল আপডেটের সঙ্গে টাকা উধাও হওয়ার সরাসরি যোগ রয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। প্রকৃত রহস্য সামনে আনতে এখন ভরসা তদন্তেই।











