নিজস্ব সংবাদদাতা: কাগজে-কলমে উন্নয়নের ঢাকঢোল যতই বাজুক, বাস্তবের ছবিটা যেন সম্পূর্ণ উল্টো। বছরের পর বছর ভাঙাচোরা রাস্তা, কাদা, জল আর ধস এই নিয়েই দিন কাটছে পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং ও নারায়ণগড় ব্লকের হাজার হাজার মানুষের। অভিযোগ, সরকার বদলেছে, জনপ্রতিনিধি বদলেছেন, কিন্তু বদলায়নি রাস্তার ভাগ্য।
সবং ব্লকের লালপুকুর থেকে বড়সাবড়া পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক আজ কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। তিন থেকে চার বছর ধরে রাস্তার সংস্কার না হওয়ায় বড় বড় গর্ত, ভাঙা পিচ আর বর্ষার জল মিলিয়ে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন সাধারণ মানুষ। অথচ এই রাস্তাটিই সবং যাওয়ার অন্যতম প্রধান ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়া সত্ত্বেও কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা সব ঋতুতেই একই দুর্ভোগ। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে পৌঁছানো, কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যাওয়া প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাড়ছে ভোগান্তি।
একই চিত্র নারায়ণগড় ব্লকের খুড়শি অঞ্চলের সিয়াড়া এলাকায়। প্রায় ৯০০ পরিবারের বসবাস এই গ্রামে। গ্রামের ভিতরে ঢুকলেই দেখা যায় হাঁটু সমান জল জমে থাকা রাস্তা, কাদায় ঢেকে যাওয়া পথ এবং পুকুরপাড়ে ধসে যাওয়া রাস্তার অংশ। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন বাসিন্দারা।
গ্রামবাসীদের ক্ষোভ স্পষ্ট “ভোটের আগে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিতে নেতাদের অভাব হয় না। কিন্তু ভোট মিটতেই সব প্রতিশ্রুতি হারিয়ে যায়। রাস্তা ভাঙে, মানুষ কষ্ট পায়, অথচ দেখার কেউ নেই।” স্থানীয়দের দাবি, আর আশ্বাস নয় অবিলম্বে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হোক। কারণ একটি ভালো রাস্তা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। এখন প্রশ্ন একটাই প্রশাসনের নজর কবে পড়বে এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের দিকে, নাকি আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষাই হবে গ্রামবাসীর একমাত্র নিয়তি?











