প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

‘স্যার, একটু দাঁড়ান!’ সবংয়ে এসে পড়ুয়াদের ডাকে কনভয় থামিয়ে গাড়ি থেকে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী

Published on: August 20, 2026
---Advertisement---

ইন্দ্রজিৎ সাহু: বন্যাবিধ্বস্ত সবং পরিদর্শন এবং প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার সবংয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আকাশপথে প্লাবিত এলাকা ঘুরে দেখে জুল্কাপুর ফুটবল মাঠে অবতরণ করে তাঁর হেলিকপ্টার। সেখান থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কনভয় নিয়ে সবং বিডিও অফিসের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। কিন্তু পথেই ঘটে গেল অন্যরকম এক মুহূর্ত। স্কুল পড়ুয়াদের আবদারে হঠাৎ থেমে গেল মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়।

হরিরহাট অনাথ স্মৃতি গার্লস হাইস্কুলের সামনে তখন রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ছিল একদল ছাত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় আসতে দেখে উৎসাহে তাঁরা হাত বাড়িয়ে তাঁকে কাছে আসার অনুরোধ জানায়। পড়ুয়াদের সেই আবদার উপেক্ষা করতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী। গাড়ি থামিয়ে নিজেই নেমে পড়েন তিনি। তারপর রাস্তার উপরেই ছোট ছোট পড়ুয়াদের সঙ্গে শুরু হয় মুখ্যমন্ত্রীর কথোপকথন। একে একে পড়ুয়াদের সঙ্গে হাত মেলান। মুহূর্তটি ঘিরে স্কুলের সামনে তৈরি হয় আনন্দের আবহ। এ সময় এক পড়ুয়া বিদ্যাসাগরের ছবি মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেয়। ছবিটি হাতে নিয়ে পড়ুয়ার সঙ্গে কথাও বলেন তিনি।

তবে শুধু পড়ুয়াদের সঙ্গেই নয়, স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গেও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে সামনে পেয়ে স্কুলের দীর্ঘদিনের পরিকাঠামোগত সমস্যাগুলি তুলে ধরেন শিক্ষকরা। হাতে তুলে দেওয়া হয় আবেদনপত্রও। হরিরহাট অনাথ স্মৃতি গার্লস হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা গীতালি সামন্ত বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীকে পাশে পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। তাঁর হাতে স্কুলের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়ে আবেদনপত্র দিয়েছি। উনি হাসিমুখে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সমস্যাগুলি শুনেছেন।”

স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্ষার সময় মিড-ডে মিল খাওয়ার জায়গাটি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। ফলে পড়ুয়াদের সমস্যায় পড়তে হয়। অন্যদিকে, ছাত্রীদের হস্টেলের পরিকাঠামোর অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। হনুমানের উৎপাত লেগেই থাকে। অ্যাসবেস্টসের ছাদ ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি। এই সমস্যাগুলির পাশাপাশি স্কুলের সামগ্রিক পরিকাঠামোর উন্নয়ন নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। স্কুলের ভিতরে এসে সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখার জন্যও তাঁকে অনুরোধ করেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

তবে ব্যস্ত কর্মসূচির কারণে পরে স্কুলে আসবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন বলে জানান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা। বন্যা পরিস্থিতি দেখতে এসে প্রশাসনিক বৈঠকের পথে এমন একটি মানবিক মুহূর্ত তৈরি হওয়ায় তা নজর কেড়েছে উপস্থিত সকলের। কনভয়ের নিরাপত্তা, প্রশাসনিক ব্যস্ততা সবকিছুর মাঝেও পড়ুয়াদের ডাকে সাড়া দিয়ে গাড়ি থেকে নেমে তাঁদের সঙ্গে কথা বলার দৃশ্য মুহূর্তেই হয়ে ওঠে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now