নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁকুড়া: দীর্ঘদিন জঙ্গলে সশস্ত্র কার্যকলাপের পর এবার অস্ত্র নামালেন তিন শীর্ষ মাওবাদী নেতা-নেত্রী। বাঁকুড়ায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন রামপ্রসাদ মান্ডি ওরফে শচীন, নয়নতারা সাহু এবং জবা মাহাতো। একসঙ্গে তিন গুরুত্বপূর্ণ মাওবাদী ক্যাডারের আত্মসমর্পণ ঘিরে জঙ্গলমহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রামপ্রসাদ মান্ডি ছিলেন আঞ্চলিক কমিটির সদস্য। নয়নতারা সাহু ও জবা মাহাতো ছিলেন জোনাল কমিটির সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে ঝাড়খণ্ড-বাংলা সীমান্তবর্তী জঙ্গল এলাকায় তাঁদের সক্রিয়তা ছিল বলে দাবি পুলিশের।
শুধু আত্মসমর্পণ নয়, সঙ্গে জমা পড়েছে ভারী অস্ত্রও। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনজনের কাছ থেকে একটি AK-47 রাইফেল, দু’টি INSAS রাইফেল, ১০টি ম্যাগাজিন এবং ১৫৪ রাউন্ড কার্তুজ জমা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশি সূত্রের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ ও প্রতিবেশী রাজ্যের বিভিন্ন থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে মিলিয়ে প্রায় ৮০টির কাছাকাছি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছিল বলেও জানা গিয়েছে।
আত্মসমর্পণকারীরা জানিয়েছেন, একসময় জঙ্গলমহলের নানা সমস্যা ও বঞ্চনার কথা সামনে রেখে তাঁরা সশস্ত্র আন্দোলনের পথে গিয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় পর সেই পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাওবাদী কার্যকলাপ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান জোরদার হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও মাওবাদী কার্যকলাপ নির্মূলের লক্ষ্য নিয়ে একাধিকবার বক্তব্য রেখেছেন। সেই আবহে বাঁকুড়ায় একসঙ্গে তিন শীর্ষ মাওবাদীর আত্মসমর্পণকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলেই দেখছে প্রশাসনিক মহল।
আত্মসমর্পণকারীদের সরকারি পুনর্বাসন নীতির আওতায় আনার প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে। নির্দিষ্ট যাচাই ও স্ক্রিনিংয়ের পর তাঁরা কী কী সুবিধা পাবেন, তা স্থির হবে। তবে আত্মসমর্পণ করলেও তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির আইনি প্রক্রিয়া চলবে।
একসময় হাতে ছিল বন্দুক, সামনে ছিল জঙ্গলের জীবন। এবার সেই অস্ত্রই পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে সমাজের মূলস্রোতে ফেরার চেষ্টা তিন মাওবাদী নেতা-নেত্রীর। এই আত্মসমর্পণের পর জঙ্গলমহলের মাওবাদী সংগঠনে কতটা প্রভাব পড়ে, এখন নজর সেদিকেই।











