নিজস্ব সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ গৃহস্থের বাড়ি। কিন্তু সেই বাড়িকেই ঘিরে নাকি দীর্ঘদিন ধরে জমছিল সন্দেহ। অচেনা যুবক-যুবতীদের আসা-যাওয়া, নির্দিষ্ট সময়ে বাইরের লোকজনের আনাগোনা এসব নিয়েই প্রশ্ন তুলছিলেন এলাকার একাংশ। শেষ পর্যন্ত সেই সন্দেহই পৌঁছয় পুলিশের কাছে। আর তারপর শনিবার মেদিনীপুর শহরের কুইকোটা এলাকায় পুলিশি অভিযানে বাড়ি থেকে আটক করা হল মোট ৯ জনকে।
পুজোয় বাইরে খাওয়ার প্ল্যান? তেমাথানির ‘Spice Hut’-এ অপেক্ষায় বিরিয়ানি, মোমো, পিজ্জা ও আরও অনেক কিছু
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরেই এমন কিছু কার্যকলাপ চলছিল, যা নিয়ে পাড়ায় কানাঘুষো শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। কে আসছে, কেন আসছে, কতক্ষণ থাকছে। এসব নিয়েই তৈরি হচ্ছিল নানা প্রশ্ন। অভিযোগ আরও, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই ধরনের সন্দেহজনক যাতায়াতের কারণে এলাকার পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছিল।
অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে শুরু করে পুলিশ। এরপর গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার কোতোয়ালি থানা ও মহিলা থানার পুলিশ যৌথভাবে ওই বাড়িতে হানা দেয়। আচমকা পুলিশি অভিযান ঘিরে এলাকায় মুহূর্তে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযানের সময় বাড়ি থেকে মোট ৯ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ছয়জন মহিলা এবং বাড়ির মালিক-সহ তিনজন পুরুষ। আটক ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
এখন পুলিশের সামনে একাধিক প্রশ্ন। ওই বাড়িতে ঠিক কী ধরনের কার্যকলাপ চলছিল? এই যাতায়াত কতদিন ধরে ছিল? বাইরে থেকে যারা আসতেন, তাঁদের সঙ্গে বাড়ির মালিকের সম্পর্ক কী ছিল? এর নেপথ্যে কোনও সংগঠিত চক্র কাজ করছিল কিনা সব দিকই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বিষয়টি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা ওই বাড়িকে ঘিরে সন্দেহ প্রকাশ করছিলেন। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত পুলিশও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ‘মধুচক্র’ চালানোর অভিযোগ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত নয়। তাই আটক মানেই অপরাধ প্রমাণ নয়। তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের পরেই স্পষ্ট হবে, ওই বাড়িতে আদৌ কোনও বেআইনি কার্যকলাপ চলছিল কি না এবং কার কী ভূমিকা ছিল।
তবে শনিবারের এই পুলিশি হানার পর কুইকোটা এলাকায় নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সাধারণ গৃহস্থের বাড়ির আড়ালে সত্যিই কি চলছিল কোনও গোপন কারবার, নাকি অভিযোগের আড়ালে রয়েছে অন্য কোনও গল্প এখন পুলিশের তদন্তেই মিলবে তার উত্তর।











