নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজনীতির চাকা ঘুরতেই অতীতের একটি মন্তব্য ফের সামনে! প্রায় ১২ বছর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে সিপিএম নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেব যে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন, তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের পর সেই বক্তব্যই ফের ঘুরছে বাংলার রাজনৈতিক মহলে।
২০১৪ সালে সাংবাদিক বৈঠকে মমতাকে ‘প্যাথলজিক্যাল লায়ার’ বলে আক্রমণ করেছিলেন গৌতম দেব। মমতার পরিবারের সম্পত্তি ও তাঁর আঁকা ছবির বিক্রি নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। তৃণমূল অবশ্য সেই সময় গৌতম দেবের অভিযোগের তীব্র বিরোধিতা করেছিল এবং পাল্টা অভিযোগও তুলেছিল।
সেই পুরনো রাজনৈতিক আক্রমণেরই একটি অংশ এখন নতুন করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে গৌতম দেবকে বলতে শোনা গিয়েছিল, মমতার নেতৃত্বে একসময় দল বিপর্যয়ের মুখে পড়বে এমনই দাবি তুলে ধরছেন পোস্টদাতারা। বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সেই বক্তব্যের মিল টেনে অনেকে সেটিকে এখন ‘এক যুগ আগের ভবিষ্যদ্বাণী’ হিসেবেও প্রচার করছেন।
কেন হঠাৎ পুরনো সেই বক্তব্য এতটা প্রাসঙ্গিক? কারণ, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে নির্বাচন কমিশন ১৭ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের দীর্ঘদিনের ‘জোড়াফুল’ প্রতীক আপাতত ফ্রিজ করেছে। বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনও পক্ষই মূল নাম ও প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না বলে জানিয়েছে কমিশন।
এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে। অন্য গোষ্ঠী পেয়েছে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘খাম’ প্রতীক। মূল দলের নাম ও জোড়াফুলের অধিকার নিয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা এখনও হয়নি। কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থও হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আর ঠিক এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই ধুলো ঝেড়ে বেরিয়ে এসেছে গৌতম দেবের এক যুগ আগের আক্রমণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পুরনো ভিডিও ও মন্তব্য শেয়ার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন তবে কি বহু বছর আগেই আজকের পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা?
যদিও গৌতম দেবের সেই মন্তব্য ছিল তৎকালীন রাজনৈতিক আক্রমণের অংশ, কোনও নিরপেক্ষ পূর্বাভাস নয়। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তও অন্তর্বর্তী। ফলে ‘ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে মিলে গিয়েছে’ এটি তথ্য নয়, রাজনৈতিক ব্যাখ্যা। তবে একথা স্পষ্ট, এক যুগ আগে বঙ্গ রাজনীতিতে ছোড়া গৌতম দেবের সেই তির নতুন পরিস্থিতিতে ফের ফিরে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রে।














