নিজস্ব সংবাদদাতা: পদক, সাফল্য আর রেকর্ড একজন ক্রীড়াবিদের পরিচয়ের বড় অংশ হলেও দীর্ঘ কেরিয়ারে টিকে থাকার লড়াইটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বাংলার জিমন্যাস্ট প্রণতি নায়েকের জীবন যেন সেই কথাই বলে। চোট, ব্যর্থতা, চাপ এবং একের পর এক কঠিন সময় পেরিয়েও আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন তিনি।
এবার নিজের চতুর্থ এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে চলেছেন ৩১ বছরের প্রণতি। ২০২৬ সালের এশিয়ান গেমসে ভারতের হয়ে নির্বাচিত একমাত্র জিমন্যাস্ট তিনি। মহিলাদের ভল্টের পাশাপাশি অল-অ্যারাউন্ড বিভাগেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বাংলার এই অভিজ্ঞ ক্রীড়াবিদ।
প্রণতির জিমন্যাস্টিক্সের পথচলা শুরু হয়েছিল মাত্র আট বছর বয়সে। স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ছোটবেলাতেই পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। এরপর দীর্ঘ অনুশীলন, প্রতিযোগিতার জন্য সফর, শারীরিক চোট এবং সেরা পর্যায়ে নিজেকে ধরে রাখার চাপ সবকিছুর মধ্য দিয়েই তৈরি হয়েছে তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ার।
ভারতীয় জিমন্যাস্টিক্সে ইতিমধ্যেই আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন প্রণতি। টোকিও অলিম্পিকে অংশ নিয়ে তিনি ভারতের দ্বিতীয় মহিলা জিমন্যাস্ট হিসেবে অলিম্পিকের মঞ্চে নামার কৃতিত্ব অর্জন করেন। বিশেষ করে ভল্ট ইভেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাঁকে দেশের অন্যতম পরিচিত জিমন্যাস্টে পরিণত করেছে।
এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ২০১৯ এবং ২০২২ সালে ব্রোঞ্জ পদক জেতেন তিনি। দ্বিতীয় পদক জয়ের পর এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে দুটি পদক জেতা প্রথম ভারতীয় জিমন্যাস্ট হিসেবে নজির গড়েন প্রণতি।
তবে সাফল্যের পাশাপাশি বারবার বাধার মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। ২০২৬ সালে চোটের কারণে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে পারেননি। কিন্তু হতাশায় ভেঙে না পড়ে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ান তিনি। মে মাসে তাসখন্দে আয়োজিত FIG World Challenge Cup-এ ভল্ট বিভাগে ১৩.০২৫ স্কোর করে রুপো জিতে প্রত্যাবর্তনের বার্তা দেন প্রণতি।
সাম্প্রতিক গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে প্রত্যাশামতো ফল না হলেও সেই অভিজ্ঞতাকে পিছনে ফেলে এখন তাঁর নজর নাগোয়ার এশিয়ান গেমসে। বড় মঞ্চে নিজের রুটিন নিখুঁতভাবে তুলে ধরে সেরা পারফরম্যান্স করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
প্রতিযোগিতার বাইরেও প্রণতির জীবনযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে শৃঙ্খলা, ধ্যান এবং মানসিক চাপ সামলানোর অভ্যাসের। পাশাপাশি তরুণ জিমন্যাস্টদের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছেন তিনি।
একসময় মাত্র আট বছরের এক মেয়ে বাড়ি ছেড়ে জিমন্যাস্টিক্সের স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। তখন সামনে ছিল না কোনও নিশ্চিত সাফল্য, ছিল শুধু অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প। বহু বছর পর সেই সিদ্ধান্তই তাঁকে নিয়ে এসেছে চতুর্থ এশিয়ান গেমসের মঞ্চে।
আজ প্রণতি শুধু একজন প্রতিযোগী নন, ভারতীয় জিমন্যাস্টিক্সের দীর্ঘ লড়াইয়ের এক পরিচিত মুখ। চোট, হতাশা এবং পরিবর্তিত সময়ের মধ্যেও বারবার ফিরে এসে তিনি দেখিয়েছেন কখনও কখনও টিকে থাকাটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।














