খড়গপুর: রেলশহরের রাজনীতিতে ফের উত্তাপ। এবার সরাসরি পুরপ্রধানের চেয়ার ঘিরে টানাপোড়েন। খড়গপুর পৌরসভার পুরপ্রধান কল্যাণী ঘোষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনলেন তৃণমূলেরই ১৫ জন কাউন্সিলর। তাঁদের অভিযোগ, পুরসভার কাজকর্ম এবং নাগরিক পরিষেবা প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোচ্ছে না।
বুধবার ১৫ জন কাউন্সিলর স্বাক্ষরিত অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট পুর প্রশাসনের কাছে। একই সঙ্গে সাত দিনের মধ্যে বিশেষ সভা ডেকে ভোটাভুটির মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্য আরও বাড়ছে কারণ অনাস্থা প্রস্তাবের নেপথ্যে রয়েছেন প্রাক্তন পুরপ্রধান প্রদীপ সরকার-সহ তৃণমূলের একাংশ কাউন্সিলর। ফলে পুরসভার প্রশাসনিক প্রশ্নের পাশাপাশি দলের অন্দরের পুরনো গোষ্ঠীসমীকরণও ফের সামনে চলে এসেছে। ২০২৩ সালে প্রদীপ সরকারের পর কল্যাণী ঘোষ পুরপ্রধানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
৩৫ আসনের খড়গপুর পৌরসভায় তৃণমূলের ২৪ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। বিজেপির ৬, কংগ্রেসের ৪ এবং সিপিএমের ১ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। সংখ্যার বিচারে তৃণমূলের দখল শক্তিশালী হলেও, শাসকদলেরই ১৫ জন কাউন্সিলরের একযোগে অনাস্থা আনা ঘিরে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন এখন একটাই পুরপ্রধানের চেয়ার কি টলছে? নাকি বিশেষ সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করে নিজের পদ ধরে রাখবেন কল্যাণী ঘোষ?
পুর পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ থেকেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি অনাস্থাকারী কাউন্সিলরদের। অন্যদিকে, কল্যাণী ঘোষের বক্তব্য, তাঁর পক্ষে যতটা সম্ভব কাজ করেছেন তিনি। ফলে আগামী দিনের ভোটাভুটি শুধু একজন পুরপ্রধানের ভাগ্যই নির্ধারণ করবে না, খড়গপুর তৃণমূলের অন্দরের রাজনৈতিক সমীকরণও কতটা বদলেছে, তারও ইঙ্গিত মিলতে পারে।
এর মধ্যেই ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে খড়গপুর পুরসভার তৎকালীন বোর্ড ভেঙে দেওয়ার ঘটনাও রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় রয়েছে। ফলে একের পর এক প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনে খড়গপুর পুরসভার রাজনীতি ফের কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রেলশহরের।














