সৌমেন আদক, খড়্গপুর: সোমবার পুরসভার সামনে ধুন্ধুমার। মঙ্গলবার পাল্টা প্রশ্নের ঝড়! পুরপ্রধান নির্বাচন ঘিরে অশান্তির রেশ কাটতে না কাটতেই এ বার সরব কংগ্রেস। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আন্দোলন করার সময় নিয়েই প্রশ্ন তুললেন খড়্গপুর পুরসভার বিরোধী দলনেত্রী তথা কংগ্রেস কাউন্সিলর প্রতিমা ঘোষ। তাঁর প্রশ্ন, সাড়ে চার মাস পর কেন আন্দোলন? এত দিন পরেই বা কেন দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে? মঙ্গলবার কংগ্রেসের সাংবাদিক সম্মেলন ঘিরে ফের সরগরম রেলশহরের পুররাজনীতি।
সোমবার, ১২ অক্টোবর পুরপ্রধান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল খড়্গপুর পুরসভা চত্বর। পুরসভার গেটে তালা ঝুলিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি সব মিলিয়ে দিনভর উত্তেজনা ছড়ায়। দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কাউকে পুরপ্রধানের চেয়ারে বসতে দেওয়া হবে না বলে দাবি তোলেন বিজেপির বিক্ষোভকারীরা। আর সেই ঘটনার পরদিনই সাংবাদিক সম্মেলন করে আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল কংগ্রেস।
মঙ্গলবারের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস কাউন্সিলর তথা বিরোধী দলনেত্রী প্রতিমা ঘোষ, কাউন্সিলর অপর্ণা ঘোষ এবং রীতা শর্মা। সেখানেই পুরসভার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন তাঁরা। প্রতিমার প্রশ্নের কেন্দ্রে দুর্নীতির অভিযোগের সময়কাল। পুরসভার কাজকর্ম নিয়ে অভিযোগ থাকলে এত দিন পর কেন তা নিয়ে আন্দোলন? সাড়ে চার মাস অপেক্ষা করার কারণই বা কী? তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সেই প্রশ্নই।
প্রসঙ্গত, খড়্গপুর পুরসভায় ক্ষমতার টানাপড়েন নতুন নয়। সম্প্রতি তৃণমূলেরই একাংশ কাউন্সিলর তৎকালীন পুরপ্রধান কল্যাণী ঘোষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। গত ৫ অক্টোবর অনাস্থা ভোটে উপস্থিত ২৮ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ২৪ জন প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। সেই প্রক্রিয়ায় বিদ্রোহী তৃণমূল কাউন্সিলরদের সমর্থন করেছিল কংগ্রেস এবং সিপিএমও। এর পরেই নতুন পুরপ্রধান নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ে।
এই পরিস্থিতিতে সোমবারের বিক্ষোভ এবং মঙ্গলবার কংগ্রেসের সাংবাদিক সম্মেলন নতুন মাত্রা যোগ করেছে পুরসভার রাজনৈতিক সংঘাতে। বিশেষ করে আন্দোলনের সময় নির্বাচন নিয়ে প্রতিমার প্রশ্নে ফের সামনে এসেছে দুর্নীতির অভিযোগ এবং রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়টি। তবে অভিযোগের সত্যতা কিংবা আন্দোলনের নেপথ্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। কংগ্রেসের তোলা প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্ট পক্ষ কী ব্যাখ্যা দেয়, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।
পুরপ্রধানের চেয়ার কার দখলে থাকবে, সেই টানাপড়েনের মাঝেই বড় প্রশ্ন পুরসভার রাজনৈতিক সংঘাতে আড়ালে পড়ে যাচ্ছে না তো সাধারণ মানুষের পরিষেবা? খড়্গপুরের পুররাজনীতিতে আপাতত সেই প্রশ্নও ক্রমশ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে।














