নিজস্ব প্রতিবেদন: ভালোবাসা প্রকাশের অন্যতম সহজ মাধ্যম চুম্বন বা কিস। প্রিয় মানুষের প্রতি আবেগ প্রকাশের পাশাপাশি সঙ্গীর সঙ্গে এই ঘনিষ্ঠতা মানসিক স্বস্তি ও সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করতেও ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সঙ্গীর সঙ্গে ইতিবাচক শারীরিক ঘনিষ্ঠতার সঙ্গে অক্সিটোসিন, মানসিক চাপ এবং সম্পর্কের অনুভূতির যোগ রয়েছে। তবে প্রতিদিন কিস করলেই নির্দিষ্ট কোনও রোগ সেরে যাবে এমন দাবি করার মতো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
সঙ্গীর স্নেহপূর্ণ স্পর্শ ও ঘনিষ্ঠতা শরীরের ‘স্ট্রেস হরমোন’ হিসেবে পরিচিত কর্টিসলের প্রতিক্রিয়া কমাতে সাহায্য করতে পারে বলে একাধিক গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে ব্যস্ত দিনের শেষে প্রিয় মানুষের কাছাকাছি থাকা বা স্নেহ প্রকাশ মানসিক স্বস্তির অনুভূতি তৈরি করতে পারে।
সঙ্গীর সঙ্গে উষ্ণ শারীরিক সংযোগের ক্ষেত্রে অক্সিটোসিনের ভূমিকা নিয়ে বহু গবেষণা হয়েছে। এই হরমোন সামাজিক সংযোগ, বিশ্বাস ও আবেগগত ঘনিষ্ঠতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই দু’জনের সম্মতিতে নিয়মিত আলিঙ্গন, চুম্বন কিংবা অন্য স্নেহপূর্ণ আচরণ সম্পর্কের আন্তরিকতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
কিস শুধুমাত্র শারীরিক ঘনিষ্ঠতা নয়, অনেক দম্পতির ক্ষেত্রেই এটি যত্ন ও ভালোবাসার বার্তা বহন করে। ইতিবাচক দাম্পত্য ঘনিষ্ঠতার সঙ্গে কম মানসিক চাপ এবং ইতিবাচক অনুভূতির সম্পর্ক গবেষণায় দেখা গিয়েছে। তবে এর প্রভাব ব্যক্তি ও সম্পর্কভেদে আলাদা হতে পারে।
চুম্বনের মাধ্যমে লালার সংস্পর্শ হওয়ায় কিছু সংক্রমণ ছড়াতে পারে। হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস, সাইটোমেগালোভাইরাস কিংবা Epstein-Barr ভাইরাসের মতো সংক্রমণ লালা ও কিসের মাধ্যমে ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তাই মুখে ঘা, সক্রিয় সংক্রমণ বা অসুস্থতা থাকলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য ও গবেষণার সারকথা প্রতিদিন কতবার বা কতক্ষণ কিস করতে হবে, তার কোনও বৈজ্ঞানিক ‘নির্দিষ্ট নিয়ম’ নেই। বরং পারস্পরিক সম্মতি, স্বাচ্ছন্দ্য, স্বাস্থ্যবিধি এবং আন্তরিকতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভালোবাসার ছোট্ট একটি প্রকাশ সম্পর্ককে সুন্দর করতে পারে, কিন্তু সেটিকে কোনও চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা ঠিক নয়।














